1 Answers
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত চেতনা 'আমার পরিচয়' কবিতার সংগ্রামী চেতনাকে নির্দেশ করে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন। এর মধ্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনার পথ ধরেই মূলত বাঙালি ১৯৭১-এ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠার নেপথ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পটভূমি তুলে ধরেছেন। কবি এখানে তাঁর আত্মপরিচয় নির্দেশ করতে গিয়ে বাঙালির বহু পুরনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সুদীর্ঘ সংগ্রামী চেতনা আমাদের সামনে এনেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাঙালির ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন। উদ্দীপকেও ভাষা আন্দোলনের সেই চেতনা এবং বাঙালি মুসলমানের ঐতিহ্য চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির আত্মজাগরণের যে উজ্জ্বল ঐতিহ্যের কথা বলা হয়েছে তা 'আমার পরিচয়' কবিতার ঐতিহ্য ও সংগ্রামী চেতনাকে নির্দেশ করে। উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে দেশপ্রেমের সচেতনতার ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আর আলোচ্য কবিতায় বাঙালির আত্মপরিচয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল প্রেরণা হিসেবে দেখা হয়েছে। এভাবে উদ্দীপকে প্রতিফলিত চেতনা 'আমার পরিচয়' কবিতার সংগ্রামী চেতনাকে নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।