1 Answers
উদ্দীপকটি 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার অর্থহীন উদ্ভট চিন্তা-চেতনার বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়।
যেকোনো কর্মপ্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায় যদি তা যথাযথ উপায়ে সম্পাদন না করা হয়। সঠিক কর্মপদ্ধতি, দক্ষতা, চিন্তা-চেতনা ও দূরদর্শিতার অভাবে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ কারণে কোনো কাজ করার আগে সে কাজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার।
অনেক সময় নিজের অযোগ্যতা ঢাকার জন্য আমরা নানা রকম যুক্তি দিয়ে থাকি। মূলত সেসব যুক্তি আমাদের অদক্ষতা, অলসতা ও নির্বুদ্ধিতাকেই প্রকাশ করে। আমরা যা বোঝাতে চাই তা অনেক সময় বোঝাতে পারি না, ব্যর্থ হই।
উদ্দীপকে কোনো এক ব্যক্তির প্রকৃত বীর না হয়ে বাক্যে বীর হয়ে থাকার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ব্যক্তি নিজেই অর্থহীন যুক্তি দিয়ে এর কারণ তুলে ধরেছে। তার দেওয়া কারণগুলো শুধু অর্থহীন নয়, মূল্যহীন ও উদ্ভট। এ বিষয়টি 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার রাজ্য থেকে ধুলাবালি দূর করার জন্য রাজার নির্দেশ রক্ষা করতে গিয়ে রাজকর্মচারীরা যে নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কিন্তু কবিতায় রাজার পদযুগল চামড়া দিয়ে ঢেকে দেওয়ার বিষয়টির মধ্য দিয়ে যে বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ ঘটেছে, উদ্দীপকে তা প্রকাশ পায়নি। এখানে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের পক্ষেও যে কঠিন সমস্যা সমাধানের সহজ উপায় ও সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে তা উদ্দীপকে নেই।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রাজা ও রাজকর্মচারীদের উদ্ভট কর্মকান্ডের সঙ্গে উদ্দীপকের ব্যক্তির অযৌক্তিক কথাবার্তা ও কর্মকান্ড সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া নিম্নশ্রেণির সাধারণ মানুষের বুদ্ধি, তাদের কঠিন সমস্যার সহজে সমাধানের উপায় ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।