1 Answers

স্বাধীনতার জন্য বাঙালির ত্যাগ-তিতিক্ষাই 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতা ও উদ্দীপকের মূল সুর।- মন্তব্যটি যথার্থ। 

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানাভাবে বাঙালিদের শাসন ও শোষণ করেছে। তারা বাঙালিদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে এদেশের ঘুমন্ত মানুষের ওপর গুলি চালায়। নির্মমভাবে হত্যা করে এদেশের অসংখ্য মানুষকে। এ দেশের মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়।

'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণে সাকিনা বিবির সহায়-সম্বল-সম্ভ্রম হারানো, হরিদাসীর স্বামী হারানো, অবুঝ শিশুর মা-বাবাকে হারানোর কথা আছে। শত্রুরা এদেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বাঙালি। এদেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকেও বাঙালির ত্যাগ-তিতিক্ষার বিষয়টি দেখা যায়। স্বাধীনতার জন্য বাংলার সন্তানরা গলিপথে পড়ে থেকেছে, পিতার লাশ এখানে ওখানে রক্তে ভেসেছে, সম্ভ্রম হারিয়েছে বাংলার নারীরা।

উদ্দীপক ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার মধ্যকার তুলনায় দেখা যায় যে, উভয় স্থানেই বাঙালির নির্মম মৃত্যু, নিজেদের সর্বস্ব হারানো, নারীদের সম্ভ্রম হারানোর বিষয় বর্ণিত হয়েছে। বাঙালিরা পাকিস্তানিদের অন্যায় শাসন-শোষণ মেনে নিতে চায়নি বলেই তাদের ওপর নেমে এসেছিল এরূপ নির্মমতা। এ কারণেই বলা যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5 views

Related Questions