1 Answers
উদ্দীপক ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বাঙালির আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। অথচ বাঙালি জাতিকে সেই অধিকার অর্জনে অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে। অনেক নারী বিধবা হয়েছে। অবশেষে বীরের রক্তে অর্জিত হয়েছে এ দেশের স্বাধীনতা।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় প্রতিফলিত এদেশের সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগের দিকটি নির্দেশ করে। এখানে একটি বধূর হাহাকার থামতে না থামতে আরেকটি বধূর বুক খাঁ খাঁ হয়ে যায়। এক পিতা নিজের হাতে পুত্রের লাশ কবরে নামানোর পরক্ষণেই আর এক পিতার বুক খালি করা সন্তানের গুলিবিদ্ধ লাশ আসে কবরস্থানে। আত্মত্যাগের এমন হৃদয়বিদারক বর্ণনা 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায়ও রয়েছে। সাকিনা বিবির কপাল ভাঙে, সিঁথির সিঁদুর মুছে যায় হরিদাসীর, এক বধূ দগ্ধ ঘরের খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। এসব বর্ণনায় পাকিস্তানিদের বর্বরতা এবং বাঙালির আত্মত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য বাঙালি যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করছে তা তুলে ধরা হয়েছে। সম্ভ্রম হারানো সাকিনা বিবি, স্বামীহারা হরিদাসী, বাবা-মা হারা নবজাতক, ছাত্রাবাস-বস্তি উজাড় হওয়া, গণহত্যা, গ্রাম-শহর পুড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে কবিতায়। উদ্দীপকেও স্বামীহারা বধূ, সন্তানহারা পিতার বেদনাময় চিত্র উঠে এসেছে।