1 Answers

"উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটিই 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার একমাত্র দিক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

১৯৭১ সালে এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। 

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে মুছে দিতে তারা এদেশের সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছেন। এদেশের মানুষের ধাধীনতার স্বপ্নকে চিরতরে মুছে দিতে তারা এমন হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তারা এদেশে গণহত্যা চালিয়ে মানুষের বাস্তুভিটাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। তাদের নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য মানুষ ছুটে পালাতে থাকে। কবিতায় প্রতিফলিত এই বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। এখানে আত্মরক্ষার জন্য মাঠ পেরিয়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, নালাপথ বেয়ে হাজার হাজার মানুষ যশোর রোড ধরে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতের কলকাতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকের এই অবস্থাটি ছাড়াও কবিতায় আরও অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি এদেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেছেন। কবিতায় কবি স্বাধীনতার জন্য সাকিনা বিবি, হরিদাসী, কৃষক সগীর আলী, জেলেপাড়ার কেষ্ট দাস, মেঘনার মাঝি মতলব মিয়া, ঢাকার রিকশাওয়ালা রুস্তম শেখ প্রমুখের ভূমিকা তুলে ধরে স্বাধীনতার জন্য এদেশের সাধারণ মানুষের সংগ্রামী চেতনাকে নির্দেশ করেছেন। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5 views

Related Questions