"উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'পল্লিজননী' কবিতার মূলভাব পুরোপুরি এক নয়।" মন্তব্যটি যাচাই কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
"উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'পল্লিজননী' কবিতার মূলভাব পুরোপুরি এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মাতৃস্নেহের কোনো তুলনা হয় না। ব্যক্তিস্বার্থে একজন অন্যজনকে স্নেহ-মমতা, শ্রদ্ধা-সম্মান, ভালোবাসা দেখাতে পারে। কিন্তু মায়ের স্নেহ-মমতায় সেই স্বার্থ নেই। মায়ের ভালোবাসা মাতৃহৃদয়ের অকৃত্রিম প্রকাশ, অম্লান ঐশ্বর্য। এ কারণেই সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা শাশ্বত-চিরন্তন।
উদ্দীপকে এক শিশুর মায়ের সঙ্গে তার ভাব-কল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মাকে না জানিয়ে সে কীভাবে ফুল হবে, ঝরে পড়বে, মায়ের কাছে গল্প শোনার বায়না ধরবে সেই বিষয়গুলো অন্তরঙ্গভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'পল্লিজননী' কবিতায় বর্ণিত রুগ্ম ছেলেটি সুস্থ থাকা অবস্থায় তার মায়ের কাছে যে আবদার, দুষ্টুমি করেছে তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু রুগ্ণ ছেলের পাশে বসে রাত জাগা জননীর অশ্রুসিক্ত হওয়া; ছেলের সুস্থতার জন্য মানত করা; বাঁশবনে কানা কুয়োর ডাক, বাদুড়ের পাখা ঝাপটানি, জোনাকির ক্ষীণ আলোয় শীতের কুয়াশা কাফন ইত্যাদি অশুভ ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই।
'পল্লিজননী' কবিতায় কবি রুগ্ম পরিবেশে অসুস্থ সন্তানের শিয়রে এক পল্লিমায়ের পুত্র হারানোর শঙ্কা তুলে ধরেছেন। কবিতায় পল্লি প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গে একটি দরিদ্র পরিবারের করুণ কাহিনি ফুটে উঠেছে। পুত্রের রোগশয্যার পাশে নিবু নিবু প্রদীপ, চারদিকে মশার অত্যাচার, ডোবার পচা পাতার গন্ধ, ঠান্ডা হাওয়া ইত্যাদি নানা কিছু পল্লিজননীর অসুস্থ ছেলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। দুরন্ত ছেলে রহিম চাচার ঝাড়ফুঁকে সুস্থ হয়েই আবার খেলতে যাবে, তখন তার মা যেন তাকে না বকে সেই অনুমতি নিয়ে নেয়। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এসব দিক বিবেচনা করে তাই বলা হয়েছে যে, উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'পল্লিজননী' কবিতার মূলভাব পুরোপুরি এক নয়।