1 Answers
"আমরা সবাই মানুষ/এটাই আমাদের শেষ পরিচয়।"- 'আমার পরিচয়' কবিতার আলোকে পঙ্ক্তিটি গভীর তাৎপর্যমণ্ডিত।
ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত বিভেদ মানুষের সত্যিকার পরিচয় খর্ব করে। তাই এগুলো কখনো মানুষের প্রকৃত সত্তার পরিচায়ক হতে পারে না। এই সংকীর্ণতার গণ্ডিতে বাঙালি আবদ্ধ নয়, সবকিছুর উর্ধ্বে সে তার মানুষ পরিচয়েই বিশ্বাসী।
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি জাতিসত্তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জীবনবোধকে নির্দেশ করেছেন। একই সঙ্গে এদেশে যে বিভিন্ন ধর্মের চর্চা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও মতাদর্শ বিস্তার লাভ করেছে সে কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে বাঙালির মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব-বিভেদ তৈরি হয়নি। কারণ তারা বিশ্বাস করে মানবতাই তাদের প্রকৃত সত্তা। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এই মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। কে কোন ধর্মে বিশ্বাসী সেসব নিশ্চিহ্ন হয়েছে জাতির সংকটের মুহূর্তে। সবাই এক মানুষ পরিচয়েই বিশ্বাসী, বাঙালি মায়ের সন্তান হতে পারাটাই তাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের।
ধর্মবিশ্বাস যদি অন্ধ হয় তবে তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এই অন্ধবিশ্বাসীরাই বিভেদ তৈরি করে মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে। বাঙালি তার হৃদয়ের মহত্ত্বে এই সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করেছে, তারা বিশ্বাস করে যে তারা মানুষ এবং এটিই তাদের আসল পরিচয়। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এবং 'আমার পরিচয়' কবিতায় এ ভাবটি প্রাধান্য পেয়েছে।