1 Answers
উক্ত মহামানব অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবে ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়- এ কথাটি যথার্থ ও সঠিক। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভগবানের পূর্ণাবতার। কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে বিদ্যমান এবং তিনি পূর্ণরূপে অবতরণ করেছিলেন।
ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংসকর্তা। অর্থাৎ ঈশ্বর যে তিনটি প্রধান ক্রিয়া সাধন করে থাকেন, তা হলো সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়। তিনি নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করেন। দেবদেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন- যেমন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী প্রভৃতি। এঁরা সকলেই ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা ধারণ করে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনকর্তা, সরস্বতী বিদ্যার দেবী, শিব প্রলয়ের দেবতা ইত্যাদি। আমরা ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তি অর্জনের জন্য স্বতন্ত্রভাবে দেবদেবীর পূজা করি, ভক্তি করি, তাঁদের কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করি।
ঈশ্বর বা ভগবান প্রধানত ছয়টি গুণে গুণান্বিত- ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য। দেবদেবীগণ পরিপূর্ণ ঈশ্বর না হলেও মহান ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত। কেননা, তাঁর ঈশ্বরের এক বা একাধিক গুণ বা শক্তি ধারণ করে আছেন। এ কারণে ঈশ্বররূপে বিভিন্ন দেবদেবীকে পূজা করা হয়। পূজার মাধ্যমে দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে পূজারীর অভিষ্ট পূরণ করেন। সুতরাং বলা যায়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের পূর্ণাবতার মধ্যে ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তি বিদ্যমান। তাই বলা যায়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবে ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।