1 Answers
বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে উক্ত ভাষা, অর্থাৎ বাংলা ভাষা বিকাশ লাভ করেছে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এক দিনের ফসল নয়; বহু বছর, কাল, পেরিয়ে আজ তা সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলার প্রাচীনতম অধিবাসীরা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলত। বাঙালি হলো সংকর জাতি। অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, ভোটচীনা ভাষাগোষ্ঠীর পর আর্যরা এ দেশে আগমন করে এবং তাদের ভাষার নাম প্রাচীন বৈদিক ভাষা। পরবর্তীকালে এ ভাষাকে সংস্কার করা হয়। পুরোনো ভাষাকে সংস্কার করা হয় বলে এ ভাষার নাম হয় সংস্কৃত। প্রাচীন যুগে আর্যরা যে ভাষায় কথা বলত এবং যে ভাষায় বৈদিক গ্রন্থ রচিত হয়েছিল, স্থানভেদে এবং সময়ের পরিবর্তনে এর অনেক পরিবর্তন ঘটে। কালক্রমে সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়। অপভ্রংশ ভাষা থেকে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়। নয় ও দশ শতকের আগে বাংলা ভাষার রূপ কী ছিল তা জানা যায় না। তবে এ শতকগুলোতে বাংলায় সংস্কৃত ছাড়াও দুটো ভাষা প্রচলিত ছিল এর একটি হলো, শৌরসেনী অপভ্রংশ এবং অন্যটি মাগধী অপভ্রংশের স্থানীয় গৌড়-বঙ্গীয় রূপ, যাকে বলা হয় পাচীন বাংলা ভাষা। একই লেখক এ দুই ভাষাতেই পদ, দোহা ও গীত রচনা করতেন। বাংলার ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হলো চর্যাপদ। আর এ চর্যাপদগুলোর মধ্যেই বাংলা সাহিত্যের জন্ম হয়। মোটামুটিভাবে বলা যায় যে, আট শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত এ পাঁচশ বছরই হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিকাশের প্রাচীন যুগ।
উদ্দীপকে তনিমা তার ভাষার বিকাশ নিয়ে একটি বই রচনা করে। বইতে সে উল্লেখ করে, তার দেশের বর্তমান ভাষা ও সাহিত্য এক দিনের ফসল নয় বহু বছর, কাল পেরিয়ে আজ তা সমৃদ্ধ। এ ভাষা বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে সৃষ্ট। তার উল্লিখিত ভাষার বিকাশধারার সাথে উপরে আলোচিত বাংলা ভাষার বিকাশধারার মিল রয়েছে।
পরিশেষে তাই বলা যায়, বাংলা ভাষা বিভিন্ন মাধ্যমে বিকশিত হয়ে সমৃদ্ধি লাভ করেছে।