1 Answers
বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্ব দুটি নামবাচক শব্দ। একটি অপরটির পরিপূরক। বুদ্ধ শব্দের অর্থ হলো যিনি সকল তৃষ্ণা ক্ষয় করে মহাজ্ঞান অর্জন করে অর্হত্বফল তথা সর্বজ্ঞান লাভ করেছেন। বোধিসত্ত্ব শব্দের অর্থ হলো যিনি বুদ্ধত্ব লাভের জন্য জন্মজন্মান্তরে অসংখ্য কুশল কর্ম সম্পাদনে নিয়োজিত থাকেন। এ থেকে বুঝা যায় বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো-
বুদ্ধ সম্যক জ্ঞানে ও গুণে পূর্ণতা বিষয়ক অভিধা বা উপাধি, অন্যদিকে বোধিসত্ত্ব সম্যক জ্ঞানচর্চাকারীর অভিধা বা উপাধি। দশ পারমীর সাধনা পূর্ণ করেই বুদ্ধত্ব অর্জিত হয়। অন্যদিকে অনন্ত জন্মের কর্মপ্রচেষ্টায় বোধিসত্ত্বগণের পারমী চর্যা গতিশীল হয়। বুদ্ধগণ বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্যকভাবে জ্ঞাত হন বলে তারা ত্রিকালদর্শী। অন্যদিকে বোধিসত্ত্বগণ বর্তমান জন্মে সচেতনভাবে কুশলকর্ম সম্পাদনে বেশি তৎপর থাকেন, তারা ত্রিকালদর্শী নন। বুদ্ধগণ সর্বজ্ঞ কিন্তু বোধিসত্ত্বগণ সর্বজ্ঞ জ্ঞানলাভের চর্চাকারী। বুদ্ধগণ স্থিত চিত্তের অধিকারী কিন্তু বোধিসত্ত্বগণের চিত্তচাঞ্চল্য ঘটতে পারে। বুদ্ধগণ ভবিষ্যৎ বুদ্ধের আগমন সম্পর্কে আভাস দিতে পারেন কিন্তু বোধিসত্ত্বগণের পক্ষে ভবিষ্যৎ বুদ্ধ বা বোধিসত্ত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বুদ্ধগণ আত্মস্থ ধর্মদর্শন প্রচার করেন কিন্তু বোধিসত্ত্বগণ নিজে কোনো দর্শন প্রচার করেন না। তাঁরা সর্বদা বুদ্ধের প্রচারিত ধর্ম দর্শনের অনুসারী।