1 Answers
"উদ্দীপকের বশিরের মা ও 'পল্লিজননী' কবিতার অসুস্থ শিশুর মায়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও তারা শাশ্বত মায়েরই প্রতিচ্ছবি।"- উক্তিটি যথার্থ।
মায়ের কাছে সব সন্তানই সমান। স্নেহ-মমতার ক্ষেত্রে সব মা-ই সমান। তাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ সন্তানের জন্য অনুভূতি অভিন্ন। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সন্তানের মঙ্গলের জন্য ব্যতিব্যস্ত থাকেন। সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে সব মায়ের মনই শঙ্কিত হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে সচ্ছল পরিবারের এক সন্তান বশিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলা হয়েছে। যার সেবার জন্য লোকের অভাব নেই, অভাব নেই ওষুধ-পথ্যের। এসবের মধ্যে সন্তানের সুস্থতার আশা ও আশঙ্কায় মায়ের চিরন্তন রূপটি প্রকাশ পেয়েছে। ঐ সন্তানের মা নফল নামাজ আদায় করছেন। ছেলের জন্য মোনাজাত করছেন। তার মনে নানা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্দীপকের মায়ের এই চিরন্তন রূপটি 'পল্লিজননী' কবিতায়ও প্রতিফলিত। অসুস্থ সন্তানের জন্য মায়ের স্নেহ-মমতা ও ব্যাকুলতার সঙ্গে বিষয়টি সাদশ্যপূর্ণ। পল্লিজননী সন্তানের জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করতে পারলেও সন্তানকে সুস্থ করতে তার চেষ্টার ত্রুটি নেই। তিনিও সন্তানের রোগমুক্তির জন্য দরগায় দান এবং নামাজের ঘরে মোমবাতি মানত করেন। অসুস্থ সন্তানের শিয়রে সারা রাত জেগে থাকেন।
উদ্দীপকের বশিরের মায়ের সঙ্গে 'পল্লিজননী' কবিতার জননীর আর্থিক অবস্থার পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্যের বাইরে মায়ের চিরন্তন রূপটি উভয়ের মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে। দুজনের মধ্যেই সন্তানের জন্য ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতা একই। উভয়েই সন্তানের রোগ নিয়ে শঙ্কিত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।