1 Answers

উদ্দীপকের মহান ব্যক্তি হলেন হযরত উমর (রা.)। কারণ উদ্দীপকে আমরা তাঁরই বৈশিষ্ট্য লক্ষ করি। হযরত উমর (রা.) ছিলেন জনদরদি খলিফা। এ উক্তির সপক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো-

১. হযরত উমর (রা.) তাঁর প্রজা তথা জনগণকে সর্বদা বাৎসল্যের দৃষ্টিতে দেখতেন। জনগণের দুঃখ-কষ্টের কথা অবহিত হওয়ার জন্য তিনি গভীর রাতে মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে বেড়াতেন। 

২. হযরত উমর (রা.) মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা মৌলিক অধিকার যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। কেউ ক্ষুধার্ত, অভাবগ্রস্ত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্যের ব্যবস্থা করতেন। দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি তাঁর দয়া, সহানুভূতি ছিল অতুলনীয়।

৩. হযরত উমর (রা.) তাঁর রাজ্যের অমুসলিম প্রজাদেরকে পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দান করেন। তাঁদের জানমালের নিরাপত্তার ভার স্বহস্তে গ্রহণ করেন। পরধর্মের প্রতি তিনি অত্যন্ত উদারনীতি অবলম্বন করেন।

৪. হযরত উমর (রা.)-এর শাসনামলে চার হাজার মসজিদ, অসংখ্য সেনানিবাস, দুর্গ, সরকারি কার্যালয়, পুল, বিদ্যালয়, বড় বড় রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ইত্যাদি নির্মিত হয়। তিনি বসরায় আবু মূসা খাল, ইরাকে মা'কাল খাল, পারস্যে সা'দ খাল এবং মিসরে আমীরুল মু'মিনীন খাল খনন করেন। তিনি বসরা, কুফা, ফোসতাত, মুসুল, জাযিরা প্রভৃতি বিখ্যাত নগরসমূহ নির্মাণ করেন।

৫. হযরত উমর (রা.) সর্বজনীন স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। যা সর্বজনীন স্বার্থ সংরক্ষণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

৬. হযরত উমর (রা.) ছিলেন সাম্য ও মানবতাবোধের মূর্ত প্রতীক। একদা জেরুযালেম যাওয়ার সময় তিনি ভৃত্যের সাথে কাজ ভাগ করে মানুষে মানুষে সমতার অবিস্মরণীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন।

পরিশেষে বলা যায়, প্রজাবাৎসল্যের ক্ষেত্রে মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.) ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

5 views

Related Questions