1 Answers

উদ্দীপকে 'এ মহান ব্যক্তি' বলতে হযরত আবু বকর (রা.)-কে বোঝানো হয়েছে। হযরত আবু বকর (রা.)-কে তাঁর কীর্তির জন্য ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়ে থাকে। নিচের আলোচনায় বিষয়টির সত্যতা মেলে-

১.  মহানবি (স.)-এর ইন্তিকালের পর খলিফা নির্বাচন নিয়ে চামানসার ও মুহাজির সাহাবাগণ বিভক্ত হয়ে পড়েন। উপস্থিত টাবুদ্ধি ও ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে হযরত আবু বকর (রা.) এ বিপদ থেকে ইসলামকে রক্ষা করেন।

২. আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন আরব গোত্র যাকাত দানে অস্বীকৃতি জানায়। প্রকারান্তরে তারা ইসলাম থেকে দূরে সরে যায়। অত্যন্ত কঠোরতার সাথে আবু বকর (রা.) তাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।

৩ . হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওফাতের পর আরবের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে ভন্ড নবিদের আবির্ভাব ঘটে। মহাবীর খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী প্রেরণ করে হযরত আবু বকর (রা.) ভন্ড নবিদের নির্মূল করেন।

৪. মহানবির ইন্তিকালের পর ইসলাম ও সদ্যগঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র স্বধর্মত্যাগীদের আন্দোলনের ফলে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ খলিফা তাদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় ধর্মত্যাগীরা। রিদ্দার যুদ্ধ নামে পরিচিত এ যুদ্ধ ইসলামের রক্ষাকবচ হিসেবে ইতিহাসে খ্যাত।

৫. ইয়ামামার যুদ্ধে বহুসংখ্যক সাহাবি শহিদ হন, যাঁরা ছিলেন কুরআনের হাফিয। এতে কুরআন বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। উমর (রা.)-এর পরামর্শে হযরত আবু বকর (রা.) তাই কুরআন সংকলনে মনোনিবেশ করেন।

৬. খলিফা আবু বকর (রা.) ইসলামের প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তাই তিনি মদিনায় সর্বপ্রথম বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

উপরিউক্ত বিষয়গুলোর আলোকে এ বিষয়টি প্রমাণিত যে, হযরত আবু বকর (রা.) ইসলাম ধর্ম ও রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবক এবং আত্মোৎসর্গ করার জন্য কৃতিত্বের অধিকারী। সুতরাং তাঁকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা খুবই যুক্তিসংগত।

5 views

Related Questions