"উদ্দীপকের ভাবনা 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার সামগ্রিক পরিচয় নয়।"- মূল্যায়ন কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
"উদ্দীপকের ভাবনা 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার সামগ্রিক পরিচয় নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ এতে স্বাধীনতা যুদ্ধ ছাড়াও বাংলার মানুষের সংগ্রামী চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।
ঐতিহ্যগত দিক থেকে বাঙালি জাতি শান্তিপ্রিয় নম্র স্বভাবের। বাঙালি শিল্পমনা, শিল্পকর্মে তাদের দক্ষতা প্রশংসনীয়। এছাড়া ধর্ম নিয়েও এ জাতির মধ্যে বাড়াবাড়ি নেই। ফলে আপাত দৃষ্টিতে বেশ নিরীহ জাতি মনে হলেও বাঙালি যে একেবারেই নিরীহ নয়, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার প্রমাণ পেয়েছে শত্রুপক্ষ ও বিশ্ববাসী।
উদ্দীপকে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বাংলায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংস তাণ্ডবে সেসময় এ দেশের মানুষ শিউরে উঠেছিল। আপনজনের রক্ত আর মৃতদেহ দেখে দেখে তাদের সেই ঘৃণা আরও প্রবল হয়ে উঠেছিল। ফলে তাদের মনে দারুণ উত্তেজনা জেগেছিল শত্রু হননের জন্য। তখন মারণাস্ত্র হাতে সাহসী তরুণ যুদ্ধ করেছিল অবিরাম। 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতায়ও এ ভাবের প্রকাশ লক্ষ করা যায়। পাকিস্তানিরা এদেশে যে অত্যাচারের পরাকাষ্ঠা চালিয়েছে তার প্রতিশোধ নিতে বাঙালিও যুদ্ধে নেমেছিল। বাঘের থাবা বসিয়েছিল শত্রুর বুকে। প্রতিশোধের নেশায় দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে তারা লড়াই করেছিল এবং অবশেষে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল।
'সাহসী জননী বাংলা' কবিতায় কবি মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ের সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যকেও ফুটিয়ে তুলেছেন। জাতিগতভাবে বাঙালি খর্ব এবং একটু কৃশ। ধর্মের প্রতি এদের কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ফলে বাঙালি জাতিকে স্বভাবগত দিক থেকে অনেকটা নিরীহ ভদ্র জাতি মনে হয়। উদ্দীপকে স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট রয়েছে। সেখানে বাঙালির ঐতিহ্যগত কোনো প্রেক্ষাপট নেই। এসব কারণে উদ্দীপকটি 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার সামগ্রিক পরিচয় নয়।