1 Answers
"ভাবগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলায় অভিন্ন সংস্কৃতির ধারা বহু বছরের ঐতিহ্য। এখানে বিভিন্ন জাতি-ধর্মের লোক বাস করলেও তারা ভাষা-সংস্কৃতি ও আচার- ব্যবহারে এক অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে চলছে। সবার সঙ্গে সবার সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উদ্দীপকে আবহমান গ্রামবাংলাকে স্মরণ করা হয়েছে। আগে এদেশের মানুষ একে অন্যের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে মিশত। সেই মেলামেশায় কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। তখন মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। বর্তমানে আগের সেই বৈশিষ্ট্য আর দেখা যায় না। উদ্দীপকে কবি এমন আক্ষেপের সঙ্গেই অতীতকে স্মরণ করেছেন। 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি জাতির ও বাংলাদেশের পশ্চাতের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য স্মরণ করেছেন। তিনি চর্যাপদ থেকে চাঁদ সওদাগর, কৈবর্ত বিদ্রোহ, পালযুগের কথা বলেছেন। তিনি একইভাবে পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার, বারো ভূঁইয়া, মধ্যযুগের সাহিত্যের মধ্য দিয়ে বাংলার এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। কবিতায় কবি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালির চিরন্তন সাম্যের মন্ত্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসার বিষয় প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য এবং পুরনো দিনের স্মৃতিকে স্মরণ করা হয়েছে। উদ্দীপকের স্মৃতিকাতরতার মধ্য দিয়ে কবি বেঁচে থাকার জন্য পুরনো দিনের পথকেই আশ্রয় করতে চেয়েছেন। আর 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি পুরনো ইতিহাস স্মরণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির উত্থান এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনের সংগ্রামী ইতিহাস-ঐতিহ্য স্মরণ করেছেন। অতীত স্মৃতিচারণের দিক দিয়ে উদ্দীপক এবং কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট আলাদা। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, ভাবগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।