1 Answers

প্রতিবেশীর প্রশ্নের জবাবে আব্দুল কাদির সাহেব বলেন, হযরত মুহাম্মদ (স.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল ছিলেন। আব্দুল কাদির সাহেবের এ উক্তিটি আমি সঠিক বলে বিশ্বাস করি। আমরা জানি, নবি-রাসুলগণের মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সর্বশেষ নবি। তাঁর আগমনের মধ্য দিয়ে নবুয়ত ও রিসালাতের পূর্ণতা সাধিত হয়েছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-

مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّنَ

অর্থ: "মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষ লোকের পিতা নন বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং শেষ নবি।” (সূরা আল-আহযাব : ৪০)

এ ঘোষণা থেকে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর পরে আর কোনো নবি বা রাসুল পৃথিবীতে আসবে না এবং আর কোনো নবি-রাসুলের প্রয়োজন নেই। কেননা তাঁর হাতেই আল্লাহ তাঁর প্রেরিত দীন বা জীবনব্যবস্থার পরিপূর্ণতা দিয়েছেন।

আরাফাতের ময়দানে মহানবি (স.)-এর বিদায় হাজের সময় মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন এবং মুহাম্মদ (স.) তাঁর ভাষণে লোকদেরকে এ ঘোষণা জানিয়ে দিয়েছেন-

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থ : “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম; আর তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন (জীবনব্যবস্থা) হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়িদা : ৩)

মানবতার কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে যত নবি-রাসুল এসেছিলেন তাঁরা কেবল কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ও বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন, কিন্তু মুহাম্মদ (স.) সর্ববিষয় ও সর্বদিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন। এছাড়া মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দীন ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করেছেন। তাই তিনি হলেন বিশ্বনবি।

পরিশেষে বলা যায় যে, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর শিক্ষায় সকল নবির শিক্ষার সমাবেশ ঘটেছে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে পূর্ববর্তী সকল নবি-রাসুলের অনুসরণ করা হয়। তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আধুনিক এ বিশ্বের শান্তি নিহিত রয়েছে।

5 views

Related Questions