1 Answers
"আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণেই সংঘটিত হয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।"- উদ্দীপক ও কবিতার ক্ষেত্রে মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিক।
এদেশের মানুষ অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেনি। মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির ওপর যখন কেউ অন্যায় আঘাত হেনেছে তখন বাঙালিরা শক্ত হাতে তা প্রতিহত করেছে। এমনকি তারা নিজেদের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছে।
উদ্দীপকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে পাহারারত অবস্থায় রয়েছে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা। তারা রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে অবস্থান। নিয়েছে। তারা সতর্ক হয়ে পুল পাহারা দিচ্ছে। কারণ এই পুল দিয়েই পাশের গ্রামে যাবে পাক হানাদাররা। তবে পাঁচজনেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে হানাদারদের ওই গ্রামে যেতে দিবে না। কেননা পুলের নিচে বোমা পুঁতে রেখেছে তারা। হানাদাররা পুলে ওঠা মাত্রই পুলটিকে উড়িয়ে দেবে তারা। অন্যদিকে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ১৯৭১ সালে আপামর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধচলাকালে বাঙালির রক্তে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয় পাকিস্তানি যুদ্ধবাজরা। তারা গণহত্যা চালায়, পুড়িয়ে দেয় গ্রাম, অনেকে হয় বিধবা, নবজাতক হারায় মা-বাবা। মুক্তিযুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক, জেলে, রিকশাওয়ালা প্রমুখ সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করেছে। এই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্য।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের যুদ্ধের প্রস্তুতি ফুটে উঠেছে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায়ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও প্রচেষ্টায় কথা বলা হয়েছে। এদেশের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় সংঘটিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। এখানে তার বর্ণনাই প্রতিভাত হয়েছে। তাই এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।