1 Answers

"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের মূলভাব কবিতার মূলভাবের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

মানুষ জন্মের পর থেকেই নিজেকে তার জন্মভূমির প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে। জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা চিরন্তন, কোনো প্রভাবে সে বন্ধন শিথিল বা ম্লান হয় না।

উদ্দীপকে একটি গ্রাম্য মানুষের আত্মপরিচয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। তস্য গলির চাল ফুটো ঘরের রোগা সেই ছেলেটি তার গাঁয়ের অতীত ভুলতে পারেনি। তার গ্রামের মানুষ তাকে কি ভুলে গেছে? এই বিষয়টি তার ভাবনায় বারবার আসে। কারণ সে জানে মানুষের হাত ধরে মানুষ কতটা যেতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তাঁবুতে ফিরে সৈনিকও উপলব্ধি করতে পারে তার অতীত, তার প্রিয় জন্মভূমিতে হেসে-খেলে কাটানো আনন্দ-বেদনার দিনগুলো। উদ্দীপকের এই বিষয়টির প্রেক্ষাপট 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার প্রেক্ষাপট থেকে কিছুটা ভিন্ন। কিন্তু দেশপ্রেমের প্রকাশ ও স্বদেশের বিভিন্ন অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচয় ব্যক্ত করা ও আত্মপরিচয় উপলব্ধি করার দিক থেকে উদ্দীপক ও কবিতার মূলভাব এক ও অভিন্ন।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি নিজের পরিচয় ব্যক্ত করতে গিয়ে জন্মভূমি এবং জন্মভূমির মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন জন্মভূমির মধ্যে তাঁর অস্তিত্ব মিশে আছে, শেকড় গেঁথে গেছে। এ কারণেই এর সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি হয়েছে। এখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষজন যেমন তার পরিচত, তেমনই তারাও কবিকে চেনে। উদ্দীপকে ছেলেটি তার আত্মপরিচয়েও তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং তার বাড়ির জীর্ণদশাকে স্মরণ করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই জন্মভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।

5 views

Related Questions