1 Answers
"উদ্দীপকে স্তবক ২-এর বক্তব্য 'আশা' কবিতার কবির প্রত্যাশার বিপরীত সত্তারই প্রকাশ"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবনে প্রাপ্তির চেয়ে প্রত্যাশা বেশি। জগৎ সংসারে যে যত পায় সে তত চায়। এই প্রত্যাশার অন্ত নেই। অতিরিক্ত সুখের প্রত্যাশা কখনই জীবনে সুখ বয়ে আনে না। যে কেবল বিত্তসুখের সন্ধান করে সে প্রকৃত সুখী নয়।
উদ্দীপকে স্তবক ২-এর মানুষের অন্তহীন প্রত্যাশার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষ যে প্রাপ্তি অপেক্ষা বেশি প্রত্যাশা করে সেই দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে যে সত্তার প্রকাশ ঘটেছে তা 'আশা' কবিতায় কবির প্রত্যাশার বিপরীত। কারণ কবি অল্পে তুষ্ট থেকে নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে যে সুখ অনুভব করার কথা বলেছেন, উদ্দীপকে স্তবক ২-এর মূলভাব তার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কবির মতে জীবনে সুখী হতে চাইলে বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ ত্যাগ করে মানুষকে ভালোবেসে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হবে এবং অল্পে তুষ্ট থাকতে হবে। স্তবক ২-এ এই বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেনি।
'আশা' কবিতায় কবি তাদেরই প্রকৃত সুখী মানুষ বলেছেন, যারা জীর্ণ বেড়ার ঘরেও রাতে নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে যেতে পারে। প্রকৃত সুখী মানুষের মধ্যে সোনা-রূপার পাহাড় গড়ার প্রবণতা থাকে না। কিন্তু উদ্দীপকে স্তবক ২-এ সেই প্রবণতা বিদ্যমান। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।