1 Answers

'সামাদ সাহেব রানার চরিত্রের বিশেষ দিককে ধারণ করলেও রানার স্বতন্ত্র'- মন্তব্যটি যথার্থ।

সমাজে নানা বৈশিষ্ট্যের এবং পেশার লোক বসবাস করে। তাদের একের আচরণের সঙ্গে অন্যের আচরণের মিল-অমিল দুটোই লক্ষ করা যায়। পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে এদের মধ্যে অনেক সময় যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। কিন্তু জীবনযাপন, জীবনের দুঃখবোধ, কাজের ধরন ইত্যাদির মধ্যে মিল থাকে না। থাকলেও তা পুরোপুরি নয়, খণ্ডিত বা আংশিক থাকে।

উদ্দীপকে সামাদ সাহেব ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যাংকে কাজ করছেন ৩০ বছর যাবৎ। কাজের প্রতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। তার কারণে কারও যেন কোনো কষ্ট না হয় সে ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সচেতন। তিনি যথাসময়ে অফিসে আসেন এবং সময় শেষ হওয়ার পর অফিস ত্যাগ করেন। ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়িতে গেলেও পরদিন যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন। উদ্দীপকে ক্লান্ত শ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে- এসব কথা নেই। এই কথার বাস্তব উদাহরণ হয়েছেন 'রানার' কবিতার রানার। ক্ষুধিত রানারের জীবনযন্ত্রণা পথের তৃণ যেভাবে জানে- শহর কিংবা গ্রামের লোকেরা তা জানে না। রানার কবিতার 'রানার' চরিত্রের এই ট্র্যাজেডি উদ্দীপকে নেই।

উদ্দীপকের সামাদ সাহেবের পেশাগত দায়িত্ববোধ ও সময়নিষ্ঠা রানার চরিত্রের বিশেষ দিককে ধারণ করে। কিন্তু রানার চরিত্রের অন্যসব দিক তার চরিত্রের মধ্যে ফুটে ওঠেনি। 'রানার' কবিতার রানার শ্রমজীবী নিম্নশ্রেণির মানুষের প্রতিনিধি। সে অসাম্যের, অমানবিকতার শিকার। কিন্তু উদ্দীপকের সামাদ সাহেব তা নন। সামাদ সাহেবের অফিসের সময়সূচি এবং 'রানার' কবিতার রানারের সময়সূচি এক নয়। রানারের জীবনের সমস্ত দুঃখ কালো রাতের খামে ঢাকা পড়ে থাকে। এসব কারণে রানার স্বতন্ত্র। কাজেই প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ হয়েছে।

5 views

Related Questions