1 Answers
"উদ্দীপকের সলিম মিয়া 'আশা' কবিতার লেখকের প্রত্যাশিত ব্যক্তি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ যা চায় তার সবটুকু পায় না। এই না পাওয়ার বেদনা মানুষের মনে নিরাশা ও হতাশার জন্ম দেয়। আবার অনেকে মিথ্যা সুখের আশায় জীবনকে ব্যর্থ করে তোলে। জীবনকে অর্থবহ ও সার্থক করে তুলতে হলে অলীক সুখের প্রত্যাশা পরিহার করে সাধারণ মানুষের মতো অর্থ-বিত্তের লোভহীন সাধারণ জীবন গ্রহণ করতে হবে।
উদ্দীপকের সলিম মিয়া অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয়ের লোভে জীবনকে যন্ত্রণাময় করেনি। মধ্যবিত্ত ঘরের সাধারণ চাকুরে হিসোবে তিনি যে পরিমাণ আয় করেন তা দিয়েই তার চলে। সময়-সুযোগ পেলেই অন্যের দুঃখ-কষ্টের শরিক হন। পরোপকারী মনোভাব এবং অল্পে তুষ্ট বলে সলিম মিয়ার মনে প্রশান্তি বজায় থাকে। উদ্দীপকের এই সলিম মিয়ার প্রশান্তিময় জীবন 'আশা' কবিতার কবিও প্রত্যাশা করেছেন। বিত্ত-বৈভব অর্জনের ভাবনায় আয়ু না কমিয়ে ভাঙা বেড়ার ঘরে নির্ভাবনায় থাকা মানুষের জীবনের কথা বলেছেন। তিনি দুরাশা ও গ্লানিময় জীবনের বাইরে এসে সাধারণ মানুষের জীবনকে গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
আশা' কবিতায় কবি মূলত বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ ত্যাগ করে মানুষকে ভালোবেসে মনুষ্যত্ব অর্জনের কথা বলেছেন। কবির এই প্রত্যাশা উদ্দীপকের সলিম মিয়ার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ তিনি বিত্ত-বৈভব অর্জনের জন্য লোভী নন। যা আছে তা নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট। এই বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।