1 Answers
"মাদার তেরেসার দর্শনই যেন 'আশা' কবিতার ভাববস্তু"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মহামানবদের জীবন আদর্শ এবং মহত্ত্ব আমাদের অনুপ্রাণিত করে। অসহায় মানুষের সেবা ও মুক্তির জন্য কাজ করাই মানুষের ধর্ম। এ ধরনের কাজের মাধ্যমেই মানুষ আত্মতৃপ্তি লাভ করে। এর মধ্য দিয়েই সমাজের কল্যাণ সাধিত হয়।
মাদার তেরেসা চিরস্মরণীয় একজন মানবসেবী। তাঁর সেবামূলক কাজ কোনো একটি দেশ বা সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বব্যাপী ছিল তাঁর মানবসেবার কার্যক্রম। তাঁর জন্মস্থান সুদূর আলবেনিয়ায় হলেও তিনি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের দুঃখ- দুর্দশায় বিচলিত হয়েছিলেন। এ কারণে তিনি ভারতবর্ষে গরিব ও অসুস্থ মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে তিনি দুঃখী মানুষের কাছে এগিয়ে গেছেন। উদ্দীপকের এই বিষয়টির সঙ্গে 'আশা' কবিতায় প্রতিফলিত মানবসেবার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসে। একে অন্যের পাশে ভাই পরিচয়ে দাঁড়ায়। কবিও মনুষ্যত্বের অধিকারী এসব মানুষের সান্নিধ্য পেতে চেয়েছেন।
'আশা' কবিতায় বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ ত্যাগ করে মানুষকে ভালোবেসে মনুষ্যত্বসম্পন্ন মানুষ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে অসহায় অনাহারী মানুষের দুর্ভাবনাহীন জীবনের সঙ্গে কবি নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চেয়ে তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথাই ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকের মাদার তেরেসাও মানবসেবা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা বলেছেন। তিনি আজীবন মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এসব দিক বিচারের তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।