1 Answers

প্রতিফলিত দিকটিই 'পল্লিজননী' কবিতার সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করে না। কারণ উদ্দীপকে কেবল সন্তানের মৃত্যুর আশঙ্কাটি প্রকাশ পেয়েছে, যা 'পল্লিজননী' কবিতার মূলভাবের একটি অংশবিশেষ।

বাবা-মায়ের কাছে সন্তান অত্যন্ত আদরের ধন। সন্তান অসুস্থ হলে তারা যেমন উদ্বিগ্ন থাকেন তেমনই সেই রোগমুক্তির জন্য নানা ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা আয়োজনেরও তাদের শেষ নেই। অত্যন্ত সচেতন হয়েও তখন নানা জনের নানা পরামর্শমতো কাজ করতে তারা পিছপা হন না। 

উদ্দীপকে বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুনের অসুস্থতা এবং পুত্রের রোগমুক্তির জন্য পিতার অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। বাবর আশঙ্কা করছেন তাঁর পুত্র হয়তো আর বাঁচবে না। তাই তাঁর চোখে ঘুম নেই। 'পল্লিজননী' কবিতায় মা তার সন্তানের জীবনাশঙ্কার সঙ্গে অতীতের নানা কথা মনে করে আবেগাপ্লুত হয়েছে। কোঁচড় ভরা বেথুল নিয়ে সাঁঝের বেলা ছেলের ঘরে ফেরা, আড়ঙের দিনে ছেলেকে কিছু কিনে দেওয়ার পয়সা না দিতে পারা, রোগে পথ্য জোগাড় করতে না পারা ইত্যাদি কষ্টবোধ উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।

'পল্লিজননী' কবিতায় সন্তানের রোগমুক্তির জন্য মানত, ঝাড়-ফুঁক, দারিদ্র্যের কারণে ছেলের খাবারের আয়োজনের ব্যর্থতা, পল্লি প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, হুতুমের অমঙ্গল ধ্বনি এসবের কোনোটিই উদ্দীপকে নেই, ইঙ্গিতেও প্রকাশ পায়নি। এসব দিক বিবেচনা করে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি 'পল্লিজননী' কবিতার সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করে না।

4 views

Related Questions