1 Answers
উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে নয় বরং বিশেষ একটা দিককে তুলে ধরে- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজ-সংসারে এমন অনেক মানুষ আছে যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেও সেই পরিশ্রমের সমান মূল্য বা মর্যাদা পায় না। বরং তারা অযত্ন-অবহেলার শিকার হয়। বাঙালি পরিবারে গৃহবধূরা সংসারের নানা কিছু দেখাশোনার কাজ করে ক্লান্ত হয়। অথচ তারাই অবহেলিত হয় সবচেয়ে বেশি। সবাইকে নিজ নিজ কর্মের যথার্থ মূল্য ও মর্যাদা দেওয়া উচিত।
উদ্দীপকে একজন গৃহপরিচারিকার দীর্ঘদিনের কাজের প্রতিদান সম্পর্কে বলা হয়েছে। একটি সংসারের জন্য তার অবদান এবং জীবনের শেষ লগ্নে ঐ পরিবারের লোকজনের আচরণগত দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যা 'নিমগাছ' প্রতীকী গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটির তার সংসারের প্রতি অবদানের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া গল্পের অন্যান্য বিষয় ও মূলভাবে প্রতিফলিত বিষয়ের সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। 'নিমগাছ' গল্পে লেখক নিমগাছের আড়ালে মূলত আমাদের সমাজের গৃহবধূদের অবস্থাটি তুলে ধরেছেন। তারা সংসারের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করেন। তাদের অবদানেই সংসার প্রাণময় হয়ে ওঠে। অথচ তারাই সংসারে থাকেন মূল্যহীন।
উদ্দীপকে রহিমদের বাড়িতে দীর্ঘ চল্লিশ বছর কাজ করার পর আকলিমা খাতুন ক্লান্ত। 'নিমগাছ' গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটিও অনুরূপভাবে ক্লান্ত। রহিমদের বাড়িতে শেষ আশ্রয় লাভের যে আশ্বাস আকলিমা পেয়েছেন তা সহানুভূতির। গল্পের বধূটি সে ধরনের কোনো আশ্বাসবাণী শোনেননি। এদিক থেকে তিনি বাঙালি বধূদের প্রতিনিধি। সংসারজীবনে তার কোনোকিছু না পাওয়া নিমগাছের মতো কারও কাছ থেকে যত্ন না পাওয়ার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। লেখক 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের নানা উপকারী দিকের সঙ্গে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির তুলনা করেছেন, যা উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। কারণ উদ্দীপকে আকলিমা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা নিমগাছের উপকারী দিকের সামান্য অংশই প্রতিফলিত হয়। এ কারণেই বলা হয়েছে, উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে নয় বরং বিশেষ একটা দিক তুলে ধরে।