1 Answers
"উদ্দীপকে 'পল্লিজননী' কবিতার একটি বিশেষ দিক প্রতিফলিত হয়েছে মাত্র, সম্পূর্ণ বিষয় নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা চিরন্তন। মা নিজের জীবনের চেয়েও সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন। সন্তানের সামান্য অসুস্থতা মায়ের অসামান্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সন্তানের অমঙ্গল আশঙ্কায় মায়ের মন অস্থির হয়ে ওঠে। অভাবের কারণে কোনো মা যদি অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা, রোগের পথ্য জোগাড় করতে না পারেন, তাহলে তার মনঃকষ্টের অন্ত থাকে না।
উদ্দীপকে এক দরিদ্র পরিবারের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে অভাবের কারণে উৎসবের দিনেও সামান্য কিছু উপহার প্রিয়জনকে দেওয়া সম্ভব হয় না। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিবারের লোকজনের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ উদ্দীপকের ব্যক্তি। এই ব্যক্তির আক্ষেপ উক্তি 'পল্লিজননী' কবিতায় প্রতিফলিত দারিদ্র্যপীড়িত পল্লিজননীর সন্তানের আবদার পূরণে ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে এটি আলোচ্য কবিতার একটি দিক মাত্র। এছাড়াও কবিতায় বিভিন্ন ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
'পল্লিজননী' কবিতায় পল্লিজননী অত্যন্ত দরিদ্র। তাই সে সন্তানের জন্য কোনো ওষুধ-পথ্য জোগাড় করতে পারেনি। উদ্দীপকের ব্যক্তিও অভাবী বলে ঈদের দিনেও প্রিয়জনকে কিছু কিনে দিতে পারেনি। এই বিশেষ দিকটি ছাড়াও 'পল্লিজননী' কবিতায় রাত জেগে সন্তানের সেবা করা, পুত্রের রোগমুক্তির জন্য দরগায়-মসজিদে মানত, সন্তানের অমঙ্গল আশঙ্কায় মায়ের অস্থির হওয়া ইত্যাদি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।