1 Answers
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত অসাম্প্রদায়িক চেতনাটি 'মানুষ' কবিতার মানবিক চেতনার একই রূপ।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্রষ্টার বিচারে সব মানুষই সমান, কেউ উঁচু বা কেউ নিচু নয়। অথচ স্বার্থের কারণে মানুষ উঁচু-নিচু, ছোট-বড় পার্থক্য নির্ণয় করে, যা জগতের সমস্ত অশান্তির মূল। একশ্রেণির মানুষ আছে যারা আত্মস্বার্থে ধর্মকেও ব্যবহার করে। তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে চায় না।
উদ্দীপকে কথকের বাবার চিন্তা-চেতনায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। অন্য ধর্মের বলে বা গবির বলে কাউকে অবহেলা না করার জন্য তাঁর সন্তানদের তিনি উপদেশও দিয়েছেন। যাতে তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদাদানে সচেষ্ট হয়। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'মানুষ' কবিতায় প্রতিফলিত মানবিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় মানুষের অপমান ও অমর্যাদাকে কবি ঘৃণা করেছেন। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে ক্ষুধার্ত ভূখারিকে ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের উপাসনালয়ের দ্বার ভেঙে গরিবের আহার নিয়ে আসার জন্য ঐতিহাসিক বীর চেঙ্গিস খান, গজনি মাহমুদকে স্মরণ করেছেন। যারা ক্ষুধার্তকে আহার না দিয়ে উপাসনালয়ের দরজা বন্ধ করে দেয়, তাদের ধ্বংসের জন্য কবি কালাপাহাড়কে আহ্বান করেছেন।
'মানুষ' কবিতায় কবি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতি প্রভৃতির বাইরে মানুষের আসল পরিচয় সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। তিনি মানুষের মর্যাদা ও সম্মান সবকিছুই স্রষ্টার কাছে সমান এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকে কথকের বাবার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দরিদ্রের প্রতি গভীর স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসা প্রকাশের সঙ্গে এক ও অভিন্ন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।