1 Answers

উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি মানুষের স্বশিক্ষিত হবার পথ রুদ্ধ করে দেয়। মন্তব্যটি যথার্থ। 

বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়। শিক্ষা হচ্ছে জীবন ও জগতের কল্যাণ সাধনে আনন্দের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত ব্যবহারযোগ্য জ্ঞান। মানুষকে যথার্থ মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে হলে মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সামনে রেখে শিক্ষা অর্জন করতে হয়। সুশিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে বই পড়া ও লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম।

উদ্দীপকে তোতা পাখিকে জোর করে পুস্তকের পাতা মুখের মধ্যে পুরে দিতে গিয়ে তাকে প্রাণহীন করা হয়েছে। এই বিষয়টি 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত আমাদের স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের জোর করে বই মুখস্থ করানোর মধ্য দিয়ে প্রাণহীন করার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। শিক্ষাপদ্ধতির ত্রুটিপূর্ণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকে। চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা এবং সার্টিফিকেট অর্জনের লক্ষ্যে প্রশ্ন মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় উগরে দিয়ে আসার মধ্য দিয়ে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় না। এতে করে তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক চিন্তা গঠিত হয় না। স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিতই থাকে। তারা স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগৎ- জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞানের বই পড়া থেকে বিরত থাকে। ফলে তাদের শিক্ষায় পূর্ণতা আসে না।

'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে বই পড়ার উপযোগিতা ও পাঠকের মানসিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এখানে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের অন্তরায় নির্দেশ করে তা থেকে উত্তরণের জন্য বই পড়তে বলেছেন। উদ্দীপকে জোর করে তোতা পাখিকে যেভাবে শিক্ষাদানের কথা ও পরিণতি নির্দেশ করা হয়েছে সেই পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ, তাতে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় না। এই কারণে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5 views

Related Questions