1 Answers
না, উদ্দীপকের এখলাস উদ্দিনের কথায় 'মানুষ' কবিতার কবির মনোভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পায়নি।
মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়াই যথার্থ মানবতা। যারা মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন তারা মানুষের বিপদে এগিয়ে আসে মানুষকে সাহায্য করার জন্য। আর যারা স্বার্থপর, ভন্ড, প্রতারক তারা মানুষের কাছে এগিয়ে আসে তাদের সমস্ত কিছু ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
উদ্দীপকের মনুষ্যত্বহীন এক ব্যক্তির অমানবিকতা এবং মনুষ্যত্বসম্পন্ন একজন মানুষের সৃষ্টিকর্তার কাছে নালিশ জানানোর বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে বন্যাদুর্গতদের ত্রাণসামগ্রী চেয়ারম্যান সাহেব আত্মসাৎ করলে মনুষ্যত্বসম্পন্ন মানুষ এখলাস উদ্দিন অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে আল্লাহর কাছে নালিশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা গরিবের হক মেরে খায়, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। উদ্দীপকের এ বিষয়টিতে 'মানুষ' কবিতার কবির মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়নি। কারণ 'মানুষ' কবিতায় কবির যে সাম্যবাদী চেতনা এবং ধর্মব্যবসায়ী, স্বার্থপর, ভন্ডদের প্রতিকার করার জন্য যে বিদ্রোহী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, তা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
'মানুষ' কবিতায় কবি সাম্য প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হয়েছেন। মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টিকারীদের প্রতি তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকের এখলাস উদ্দিনের কথার মধ্যে প্রকাশ পায়নি। তার যে প্রার্থনা তা প্রতিবাদ-প্রতিরোধের চেষ্টার বাইরে। 'মানুষ' কবিতায় কবি চেঙ্গিস, গজনি মামুদ, কালাপাহাড়কে স্মরণ করেছেন। উদ্দীপকের এখলাস উদ্দিনের কথায় এর প্রভাব নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের এখলাস উদ্দিনের কথায় 'মানুষ' কবিতার কবির মনোভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পায়নি।