1 Answers
"উক্ত দিকটিই 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় বর্ণিত রাজ্যের যত অনাসৃষ্টির কারণ"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সব কাজই মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। যেসব কাজে পরিকল্পনার অভাব থাকে কিংবা দূরদর্শিতার কমতি থাকে সেসব কাজ মানুষের কল্যাণ অপেক্ষা দুর্ভোগই বাড়িয়ে দেয়। আবার কারও খেয়ালের বশে অনেকে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে উদ্ভট ও অর্থহীন কাজের বর্ণনা রয়েছে। যেমন ছবির ফ্রেমে আমসত্ত্ব বাঁধিয়ে রাখা, রানির মাথায় বালিশ বাঁধা, সর্দি হলে ডিগবাজি খাওয়া, শিরিশ কাগজের বিছানা পাতা ইত্যাদি অর্থহীন বিষয় বর্ণিত হয়েছে যা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় উল্লেখকৃত পাত্রমিত্র, মন্ত্রী, জ্ঞানী-গুণী-যন্ত্রী, পণ্ডিতদের কর্মকাণ্ডে তুলে ধরা হয়েছে। এ সব বিষয়ই অসংগতি ও অনাসৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজা ধুলা থেকে বাঁচতে সারা দেশ থেকে ধুলা দূর করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মন্ত্রীকে আদেশ দেন। মন্ত্রী, পারিষদ ও পন্ডিতদের সৃষ্টিছাড়া সিদ্ধান্তে দেশ ধুলা-কাদায় ছেয়ে যায়। সাড়ে-সতেরো লক্ষ ঝাঁটা দিয়ে দেশের ধুলা ঝাড়া শুরু হলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে সমস্যা থেকে বাঁচতে পুকুর-নদী-বিলের জল তুলে ধুলা দূর করতে গিয়ে কাদায় দেশ ছেয়ে যায়। এর পর সারা পৃথিবী চামড়া দিয়ে ঢেকে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব উদ্ভট চিন্তা এবং অর্থহীন কর্মকান্ডে দেশ ও জনগণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।