1 Answers

"উদ্দীপকটি 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ করেছে মাত্র, পুরো বিষয়কে নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

মানবজীবন অত্যন্ত মূল্যবান। এ জীবনকে সুন্দর ও সুখময় করার জন্য কাজ করতে হয়। যারা হতাশায় জীবনকে মুড়িয়ে রাখে, কাজ থেকে দূরে থাকে তারা জীবনের প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করতে পারে না। তারা জীবনে সফল হতে পারে না।

'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি ক্ষণস্থায়ী মানবজীবনকে সার্থক করে তোলার কথা বলেছেন। কবি এখানে জীবনকে হতাশায় না জড়িয়ে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বলেছেন। উদ্দীপকে এ চেতনাটি নেই। সেখানে জীবন থেকে মৃত্যুপথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় যারা জীবনকে নিশার স্বপন মনে করে, সংসারে তাদের জন্ম বৃথা মনে করে, কবি তাদের সংসারে সংসারী সেজে নিত্য নিত্য কাজ করতে বলেছেন। উদ্দীপকের ব্যক্তি নিজেকে ভারমুক্ত করে পারের পথের যাত্রী হিসেবে প্রস্তুতি নিতে চায়। এই বিষয়টি 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার জীবনকে ক্ষণস্থায়ী মনে করার বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়া 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার অন্য কোনো বিষয় এতে প্রতিফলিত হয়নি। এ কবিতায় সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করে মানবকল্যাণ সাধনের মধ্য দিয়ে জীবনকে সার্থক করার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের বিষয় উদ্দীপকে নেই।

'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি মহাজ্ঞানী-মহাজনদের আদর্শ ও পথ অনুসরণ করে তাঁদের মতো মহৎ কাজে আত্মনিয়োগ করে জীবনকে সার্থক করে তোলার যে কথা বলেছেন তা উদ্দীপকে নেই। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি মানুষকে সাহসী সৈনিকের মতো সংসারের সব ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে বলেছেন। আর উদ্দীপকের ব্যক্তিটি এর বিপরীতে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভেবে সেই অনুসারে প্রস্তুতির কথা বলেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

4 views

Related Questions