1 Answers
"উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় শৈশবস্মৃতি স্মরণের মধ্য দিয়ে জন্মভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের শৈশব ও কৈশোর জীবনের স্মৃতি চির অম্লান হয়ে থাকে। এদেশের সবুজ প্রকৃতি, নদ-নদীর সঙ্গে মানুষের শৈশব কাটে খুব আনন্দঘন পরিবেশে। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষ শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি প্রবাসে গিয়ে প্রিয় কপোতাক্ষ নদের সঙ্গে মিশে থাকা তাঁর শৈশবস্মৃতি স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। এই স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি প্রবাসে বসে স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। তাঁর কাছে এ নদ যেন দুগ্ধ-স্রোতোরূপী। আর তা তাঁর জন্মভূমিতে বয়ে চলছে। জন্মভূমির এ নদ যেন মায়ের স্নেহডোর কবিকে বেঁধেছে। তাই তিনি এ নদের কাছে মিনতি করেন- কপোতাক্ষ যেন তার স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীদের ব্যক্ত করে। এখানে কবির যে স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত তার সঙ্গে উদ্দীপকের মিল রয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিও স্মৃতি স্মরণ করার ক্ষেত্রে নিজ গ্রাম, পাখি-স্বপ্ন-জাগরণ ইত্যাদির কথা বলেছেন। পিতার হাত ধরে আপন স্বদেশ, প্রিয় জন্মভূমিকে চিনে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে শৈশবস্মৃতি স্মরণের মধ্যে নিজের জন্মভূমিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এ বিষয়টি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির শৈশবস্মৃতি স্মরণে প্রিয় জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। উভয় ক্ষেত্রেই নিজের দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। এই দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।