1 Answers

"'নিয়তি' গল্পের লেখকের বাবা এবং উদ্দীপকের ফরিদ উভয়ই নিয়তির শিকার।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

নিয়তির ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে কেউ হয় দরিদ্র প্রজা, আবার নিয়তিই কাউকে রাজা- মহারাজা বানায়। কখনো কখনো নিয়তি মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

'নিয়তি' গল্পে একটি কুকুরের নিষ্ঠুর নিয়তি তুলে ধরা হয়েছে। মহারাজার কুকুর বেঙ্গল টাইগার একসময় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াত। পরবর্তী সময়ে বয়সের ভারে সে ঝিমুতে ঝিমুতে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকে। কুকুরটি লেখকের ছোট ভাইকে সাপের ছোবল থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই সাপের বিষ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে এক করুণ অবস্থায় পতিত হয়। অন্যদিকে উদ্দীপকের ফরিদও নিয়তির নির্মমতায় নিঃস্ব হয়। একটি গরুর খামার গড়ে তুলে সে স্বাবলম্বী হলেও নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস- ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তার সব গরু মারা যায়। সব হারিয়ে সে নির্বাক হয়ে যায়।

উদ্দীপকের ফরিদ নিয়তির কাছে অসহায়। 'নিয়তি' গল্পের বেঙ্গল টাইগার একসময় রাজকীয়ভাবে জীবন কাটালেও আজ তার সেই অবস্থা নেই, এখন সে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। অবশেষে লেখকের বাবা তাকে সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। যদিও এটি তার নির্মমতা নয়- কুকুরটির অবর্ণনীয় কষ্ট তাঁকে এই দিকে ঠেলে দিয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

6 views

Related Questions