1 Answers
উদ্দীপকের কমলের উত্তরের পরিপ্রেক্ষিতে যৌক্তিক বিভাগের নিয়মগুলোর মধ্যে যেভাবে নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি ঘটে, তা নিচে আলোচনা করা হলো-
উদ্দীপকের কমল বলে, কাজল বিভিন্ন নীতির ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করেছে। যেমন: সততার ভিত্তিতে সৎ ও অসৎ মানুষ, সভ্যতার ভিত্তিতে সভ্য ও অসভ্য মানুষ, রঙের ভিত্তিতে ফর্সা, কালো, শ্যামলা; শিক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষ ইত্যাদি। অর্থাৎ যখন কোনো নিয়ম বা নীতি অনুসারে একটি জাতি বা শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা ক্ষুদ্রতর শ্রেণিতে ভাগ করা হয়, তখন তাকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। যৌক্তিক বিভাগে সবসময় একটি শ্রেণি বা জাতিকে ভাগ করা হয়, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে নয়। আর এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটে।
আবার নিয়ম অনুযায়ী যৌক্তিক বিভাগে মূলসূত্র সবসময় একটি হতে হবে, একাধিক নীতি অনুসরণ করা চলবে না; যেমন : সততার ভিত্তিতে সৎ ও অসৎ মানুষ বিভক্ত করা। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংকর বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটে। সংকর বিভাগজনিত অনুপপত্তি যৌক্তিক বিভাগে একটি নীতির পরিবর্তে একাধিক নীতি অনুসরণ করে; যেমন: মানুষকে সৎ, সভ্য, ফর্সা উপজাতিতে বিভক্ত করলে সংকর বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটে। কারণ এখানে সততা, সভ্যতা এবং বর্ণ- এই তিনটি সূত্রের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
তাছাড়া যৌক্তিক বিভাগে উপজাতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে। পরস্পরের সাথে একত্রিত হয়ে বা মিলেমিশে থাকবে না; যেমন : মানুষ জাতিকে ফর্সা, কালো ও শ্যমলা উপজাতিতে বিভক্ত করা। আর এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে পরস্পরাঙ্গী বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটে। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।