1 Answers
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি লঙ্ঘন করলে দুধরনের অনুপপত্তি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। যেমন:
বিভাগকরণ প্রক্রিয়ায় বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মিলিত ব্যকুর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের চেয়ে কম হলে যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে 'অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি'র উদ্ভব ঘটে। এরূপ ক্ষেত্রে এটি জাতি বা শ্রেণিকে বিভক্ত করার সময় তার অন্তর্গত সম্ভাব্য সবগুলো উপজাতি বা উপশ্রেণিকে উল্লেখ করা হয় না। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে দু-একটি উপজাতি বা উপশ্রেণি বিভাগকরণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যায়। ফলে যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভ্রান্ত বিভাগের উদ্ভব ঘটে। যেমন: মানুষ শ্রেণিকে ধনী ও দরিদ্র এ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করলে এ ক্ষেত্রে আলোচ্য অনুপপত্তির সৃষ্টি হবে। কারণ এখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ধনী ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা মিলিতভাবে মানুষের সংখ্যার চেয়ে কম হওয়ায় বিভাজন প্রক্রিয়াটি অব্যাপক হয়েছে।
আবার বিভাগকরণ প্রক্রিয়ায় বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মিলিত ব্যকুর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের চেয়ে বেশি হলে যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে 'অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি'র উদ্ভব ঘটে। এরূপ ক্ষেত্রে একটি জাতি বা শ্রেণিকে বিভক্ত করার সময় তার অন্তর্গত সম্ভাব্য সব উপজাতি বা উপশ্রেণির উল্লেখের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জাতির সাথে সম্পর্কিত নয় এমন অতিরিক্ত দু-একটি উপজাতি বা উপশ্রেণিকেও একই সাথে উল্লেখ করা হয়। ফলে যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভ্রান্ত বিভাগের উদ্ভব ঘটে। যেমন: মুদ্রাকে যদি স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা, তাম্রমুদ্রা ও কাগজের নোটে বিভক্ত করা হয়, তাহলে বিভাজন প্রক্রিয়াটি অতিব্যাপকতার দোষে দুষ্ট হবে। কারণ কাগজের নোট মুদ্রা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। আর অন্যান্য মুদ্রার সাথে একে অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিধায় এ ক্ষেত্রে আলোচ্য ভ্রান্ত বিভাগের উদ্ভব ঘটেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত নিয়মটি লঙ্ঘন করলে অব্যাপক বিভাগ ও অতিব্যাপক বিভাগ নামক অনুপপত্তি দেখা যায়।