1 Answers
উদ্দীপকে ছাত্রের শ্রেণিবিন্যাসে 'বিভাজন প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর হতে হয়।' এ নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। এ নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ নামক অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়। নিচে উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো-
যৌক্তিক বিভাগের একটি অন্যতম ভ্রান্তরূপ হচ্ছে 'উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ', যার উদ্ভব ঘটে বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এই নিয়ম অনুযায়ী, বিভাজন প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর হতে হয়। অর্থাৎ যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে প্রতিটি জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে তার সম্ভাব্য নিকটতম উপজাতি বা উপশ্রেণিতে পর্যায়ক্রমে বিভক্ত করতে হয় এবং লক্ষ রাখতে হয়, এ ক্ষেত্রে যেন মধ্যবর্তী কোনো শ্রেণিকে বাদ দেওয়া না হয়। বস্তুত এ জাতীয় বিভাগে পর্যায়ক্রমিক অনেকগুলো স্তর থাকে। আর এ স্তরগুলোর কোনো একটিকে বাদ দিয়ে অগ্রসর হলে আলোচন ত্রুটিপূর্ণ বিভাগের উদ্ভদ্ধ ঘটে। যেমন: 'জীব' শ্রেণিকে সরাসরি 'সভ্য মানুষ' ও 'অসভ্য মানুষ'-এ দুটি উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হলে বিভাজন প্রক্রিয়াটি ভ্রান্ত হয়। কারণ এখানে জীবের নিকটতম স্তর হিসেবে 'মানুষ' শ্রেণিকে উল্লেখ করা হয়নি। এর ফলে আলোচ্য বিভাজন প্রক্রিয়াটি পরিণত হয়েছে 'উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ' নামক ভ্রান্ত বিভাগে। বস্তুত এ ক্ষেত্রে 'জীব' শ্রেণিকে প্রথমে 'মানুষ' ও 'পশু' -এ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে তারপর 'মানুষ' শ্রেণিকে পুনরায় 'সভ্য' ও 'অসভ্য' -এ দুটি উপশ্রেণিতে বিভক্ত করলে ভ্রান্তির কোনো অবকাশ থাকত না। কাজেই বিভাজন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভ্রান্তি এড়ানোর জন্য জাতি বা শ্রেণিকে পর্যায়ক্রমিক উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করাই বাঞ্ছনীয়।