1 Answers
উদ্দীপকে উাল্লখিত গনি মিয়ার শ্রেণিবিন্যাসে যৌক্তিক বিভাগের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিফলিত হয়েছে। তার ব্যতিক্রম ঘটলে গুণগত বিভাগের অনুপপত্তি দেখা দেয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- যৌক্তিক বিভাগের একটি অন্যতম ভ্রান্তরূপ হচ্ছে 'গুণগত বিভাগ', যায় উদ্ভব ঘটে বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এর একটি নিয়ম হলো, যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করতে হয়। কাজেই একক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর যৌক্তিক বিভাজন সম্ব নয়। কারণ একক ব্যক্তি বা বস্তুকে কেবল তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বা বিভিন্ন গুণে বিভক্ত করা যায়। অন্যদিকে আরেকটি নিয়ম হলো বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির নাম বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণির উপর প্রযোজ্য হয়ে থাকে। কাজেই একক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে যদি তার বিশিষ্ট গুণসমূহে বিভক্ত করা হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে 'গুণগত বিভাগ' নামক ত্রুটিপূর্ণ বিভাগের উদ্ধ ঘটে। এরূপ ক্ষেত্রে বিভক্ত গুণাবলির কোনোটির উপরই বিভাজ্য ব্যক্তি বা বস্তুর নামটি প্রযোজ্য হয় না। যেমন: একটি ফুলকে গন্ধ, বর্ণ, সৌন্দর্য ইত্যাদি বিশিষ্ট গুণে বিভক্ত করলে এর কোনোটির উপরই 'ফুল' নামটি প্রযোজ্য হয় না। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি না যে গন্ধ ফুল, বর্ণ ফুল বা সৌন্দর্য ফুল। আর এরূপ ক্ষেত্রে বিভাজন প্রক্রিয়াটি পরিণত হয় 'গুণগত বিভাগ' নামক ভ্রান্ত বিভাগে। কাজেই বিভাজন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভ্রান্তি এড়ানোর জন্য একক ব্যক্তি বা বস্তুকে কোনোভাবেই তার বিশিষ্ট গুণসমূহে বিভক্ত করা উচিত নয়।