1 Answers
উদ্দীপকে প্রফেসর সুনীলবাবু যৌক্তিক সংজ্ঞার যে নিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন, তা হচ্ছে যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম। নিচে এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে যে অনুপপত্তি ঘটে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হলো- প্রথম নিয়ম অনুযায়ী, যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদানকালে যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সে পদের জাত্যর্থের পূর্ণ উল্লেখ করতে হবে। অর্থাৎ জাত্যর্থের কমবেশি উল্লেখ করলে চারটি অনুপপত্তি ঘটবে; যথা: (১) বাহুল্য সংজ্ঞা, (২) অবান্তর লক্ষণজনিত সংজ্ঞা, (৩) অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি, (৪) অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি।
কোনো পদের সংজ্ঞায় যদি জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো গুণের উল্লেখ করা হয় এবং সেই অতিরিক্ত গুণটি যদি উপলক্ষণ হয়, তাহলে 'বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটবে; যেমন : মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন এমন জীব, যে ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে। এখানে 'ভলো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা' এই অতিরিক্ত গুণটি উপলক্ষণ হওয়ায় বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। আবার সংজ্ঞায় যদি জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো গুণের উল্লেখ করা হয় এবং সে অতিরিক্ত গুণটি যদি 'অবান্তর লক্ষণ' হয়, তবে সে ক্ষেত্রে 'অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি ঘটে'। যেমন: 'সব মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন দ্বিপদ প্রাণী।' এই যুক্তিবাক্যে 'দ্বিপদ' শব্দটি 'মানুষ' পদের অতিরিক্ত অবান্তর গুণ। 'মানুষ' পদ থেকে এ অতিরিক্ত অবান্তর লক্ষণ গুণটি বিচ্ছেদ করা যায় না বলেই সংজ্ঞাটিতে অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে উক্ত পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ ছাড়াও অতিরিক্ত গুণ হিসেবে যদি কোনো বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ গুণের উল্লেখ থাকে, তাহলে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটবে। যেমন: 'সব মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সভ্য প্রাণী।' এই যুক্তিবাক্যে 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের সাথে 'সভ্য' গুণটি উল্লেখ করায় 'মানুষ' পদের ব্যক্তর্থ হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ 'মানুষ' পদের ব্যক্তর্থ কমে যাওয়ায় অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে।
কোনো পদের সংজ্ঞা দেওয়ার অর্থই হলো আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ সামগ্রিকভাবে উল্লেখ না করে এদের মধ্যে কোনো একটি গুণ উল্লেখ করলে উক্ত পদের ব্যক্তর্থ বেড়ে যায় এবং অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে; যেমন : 'সব মানুষ হয় জীব।'-এ যুক্তিবাক্যে 'মানুষ' পদটির আসন্নতম জাতি উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে উক্ত পদের ব্যক্তর্থ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সংজ্ঞা সহজ-সরল ও নিয়ম অনুযায়ী হওয়া উচিত। কোনোভাবেই সংজ্ঞায় উপলক্ষণ, অবান্তর লক্ষণ, বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, রূপক শব্দ, দুর্বোধ্য শব্দ ও সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। তাই সংজ্ঞা প্রদানের সময় সর্বদা যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম-বিধি অনুসরণ করা উচিত।