1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছাত্রের সংজ্ঞায় পদের সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থের ব্যক্তর্থ সমপরিমাণ নিয়ম প্রতিফলিত হয়েছে। তার লঙ্ঘন হলে দুই ধরনের অনুপপত্তির উদ্ভব ঘটে। যেমন:

কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট পদের ব্যক্তর্থের চেয়ে সংজ্ঞায় কম ব্যক্তর্থযুক্ত পদ ব্যবহার করা হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে অব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। এরূপ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয়ের ব্যক্তর্থের চেয়ে সংজ্ঞার্থের ব্যকুর্থ কম থাকে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থ সমপরিমাণ হয় না; ফলে এরূপ সংজ্ঞা আলোচ্য অনুপপত্তিকে সূচিত করে। যেমন: "মানুষ হয়। বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সৎ প্রাণী।" এ সংজ্ঞায় কেবল সৎ মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং অসৎ মানুষকে মানুষ শ্রেণির বহির্ভূত রাখা হয়েছে; যদিও অসৎ মানুষও মানুষ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বস্তুত সৎ মানুষ ও অসৎ মানুষের সমষ্টিগত ব্যক্তর্থ হচ্ছে মানুষ শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ। সুতরাং কোনো পদের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয়ের ব্যক্তর্থের চেয়ে সংজ্ঞার্থের ব্যক্তকুর্থ কম হলে সংজ্ঞা অব্যাপক হয়। ফলে তা সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

আবার কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট পদের ব্যক্তর্থের চেয়ে সংজ্ঞায় বেশি ব্যক্তর্থযুক্ত পদ ব্যবহার করা হয়। তাহলে সে ক্ষেত্রে অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটবে। এরূপ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয় পদের ব্যক্তর্থের চেয়ে সংজ্ঞার্থের ব্যক্তর্থ বেশি হয়। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থের ব্যকুর্থ সমপরিমাণ হয় না; বরং সংজ্ঞার্থে অতিরিক্ত পরিমাণ বিষয় বা বস্তুর উল্লেখ থাকে। ফলে এরূপ সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আলোচ্য অনুপপত্তি ঘটার সম্ভাবনা দেখা দেয়। যেমন: "মানুষ হয় প্রাণী", এ সংজ্ঞা অনুযায়ী মানুষ প্রাণী এ কথা ঠিক। কিন্তু মানুষ ছাড়া আরও অনেক প্রাণী আছে; যেমন: গরু, ছাগল, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি। তাই মানুষের ক্ষেত্রে প্রদত্ত সংজ্ঞাটি এসব প্রাণীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।

অতএব, এভাবে অধিক ব্যক্তর্থসম্পন্ন কোনো পদ দ্বারা অল্প ব্যক্তর্থসম্পন্ন কোনো পদকে সংজ্ঞায়িত করলে সংজ্ঞাটি অতিব্যাপক হয়ে ভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

5 views

Related Questions