1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত সালাউদ্দিনের সংজ্ঞায় 'সদর্থক বা ইতিবাচক ভাষা ব্যবহার' লঙ্ঘিত হয়েছে। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে নিম্নোক্ত অনুপপত্তির উদ্ভব হয়- সংজ্ঞার্থে নঞর্থক বা নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করে কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদান করা হলে সংজ্ঞাটিতে নঞর্থক বা নেতিবাচক সংজ্ঞা অনুপপত্তির উদ্ভব ঘটে। যেমন: মানুষের সংজ্ঞায় বলা যায়, "মানুষ হচ্ছে এমন প্রাণী, যার পালক নেই"- এ সংজ্ঞা দ্বারা মানুষ বলতে কী বোঝায়, তা ব্যক্ত হয়নি, বরং মানুষের কী নেই, তা-ই ব্যক্ত হয়েছে। এতে মানুষ পদটির অর্থ সুস্পষ্ট না হয়ে অস্পষ্টই রয়ে গেছে। তবে এমন কিছু পদ আছে, যেগুলোকে সংজ্ঞায়িত করার মতো কোনো সদর্থক শব্দ থাকে না, অর্থাৎ যেগুলোকে কেবল নঞর্থক ভাষা দ্বারাই সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব; যেমন- অনাথ বলতে যার পিতামাতা নেই তাকেই বোঝায়। এখানে 'অনাথ' পদটিকে নঞর্থক ভাষা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কারণ পদটি প্রকাশের জন্য অন্য কোনো সদর্থক ভাষা ব্যবহারের উপযোগী নয়। কাজেই এ জাতীয় পদকে সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করা হলে আলোচ্য নিয়মের লঙ্ঘন হয় না, বরং নিয়মটি লঙ্ঘিত হয় তখনই, যখন কোনো পদকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য পর্যাপ্ত সদর্থক শব্দ বা পদ থাকা সত্ত্বেও তাকে নঞর্থক ভাষা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। সুতরাং সংজ্ঞার ক্ষেত্রে নঞর্থক বা নেতিবাচক সংজ্ঞা নামক' ভ্রান্তি এড়াতে হলে অবশ্যই যথাযোগ্য স্থানে নঞর্থক ভাষার পরিবর্তে কেবল সদর্থক ভাষাই ব্যবহার করতে হবে।
বস্তুত জাগতিক বিষয়াবলির বৈজ্ঞানিক অনুধ্যানে সংজ্ঞার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সংজ্ঞা সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সে ক্ষেত্রে উপরে প্রদত্ত পাঁচটি নিয়মের অনুসরণ যেমন প্রয়োজন, তেমনি এ নিয়মগুলোর অপপ্রয়োগ এড়িয়ে সংজ্ঞাকে অনুপপত্তির সম্ভাবনামুক্ত করাও অপরিহার্য।