1 Answers
উদ্দীপকে উল্লেখিত কবির সংজ্ঞায় ছাত্র যে সংজ্ঞা দিয়েছে তাতে 'সংজ্ঞার সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থের ব্যকুর্থ সমপরিমাণ' নিয়মের প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে তা নিরূপণ করা হলো- A definition should exactly coincide with the denotation of the term defined, it should neither include things not denotated by the term nor exclude things denotated by the term. অর্থাৎ কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে সেই পদের সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থের ব্যক্তর্থ সমপরিমাণ হবে। কম বা বেশি হতে পারবে না। যেমন : মানুষের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বলা যায়, "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী।” এখানে মানুষের ব্যক্তর্থ ও বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণীর ব্যক্তর্থ সমান এবং এ দুটি পদ অভিন্ন। কারণ এ সংজ্ঞাটিকে এভাবেও ব্যক্ত করা যায়, “যারা মানুষ, তারাই বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী এবং যারা বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী তারাই মানুষ।" এ ক্ষেত্রে উপরের বক্তব্যের সাথে বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে অর্থগত কোনোরূপ পার্থক্য দেখা যায় না। সংজ্ঞার এ নিয়মটি মূলত যুক্তিবিদ জোসেফ তার An Introduction to Logic (P-112) গ্রন্থে উল্লেখ করলেও অধ্যাপক মেলোন তার, Elements of Modern Logic' (P- 43) গ্রন্থে নিয়মটিকে ভিন্নভাবে ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সে পদের সাথে সংজ্ঞার্থ পদ সহজেই স্থানান্তরযোগ্য হতে হবে। এককথায় সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে একটি পদের সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থকে পরস্পর বিনিময়যোগ্য হতে হবে। যেমন: “সব মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী"-এ সংজ্ঞায় সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থ পদ দুটিকে সহজেই পরিবর্তন করে আমরা বলতে পারি, “সব বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী হয় মানুষ।” এরূপ ক্ষেত্রে দুটি দৃষ্টান্তের মধ্যে অর্থের কোনো ভিন্নতা দেখা যায় না।
উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয়, কবির সংজ্ঞায় ছাত্র যে সংজ্ঞা দিয়েছে তাতে সংজ্ঞার 'সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থের ব্যকুর্থ সমপরিমাণ' নিয়মের প্রতিফলন ঘটেছে।