1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম ছাত্রের সংজ্ঞায় 'বাহুল্য সংজ্ঞা' নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। নিচে তা নিরূপণ করা হলো- যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি অন্যতম ভ্রান্তরূপ হচ্ছে 'বাহুল্য সংজ্ঞা', যার উদ্ভব ঘটে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রথম নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এ নিয়মের মূলকথা হচ্ছে, পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে কেবল পদটির জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে, জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো গুণের উল্লেখ করা যাবে না'বা জাত্যর্থের কোনো অংশকে বাদ দেওয়া যাবে না। কাজেই কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে যদি অতিরিক্ত কোনো গুণের উল্লেখ করা হয় এবং এ অতিরিক্ত গুণটি যদি উপলক্ষণ (Proprium) হয়, তাহলে আলোচ্য সংজ্ঞাটিতে 'বাহুল্য সংজ্ঞা' নামক ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞার উদ্ভব ঘটে। যেমন: "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন চিন্তাশীল প্রাণী", এ ক্ষেত্রে 'চিন্তাশীল' গুণটি হচ্ছে 'মানুষ' পদের উপলক্ষণ, যা মানুষের সংজ্ঞায় অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হওয়ায় সংজ্ঞাটি বাহুল্যদুষ্ট সংজ্ঞায় পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, এ সংজ্ঞাটিকে বাহুল্য সংজ্ঞা বলা হয় এ জন্য যে, এ ক্ষেত্রে সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত অতিরিক্ত গুণ হিসেবে উপলক্ষণটি জাত্যর্থের মধ্যেই নিহিত থাকে, যাকে আলাদা করে উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজনই নেই। যেমন: উপরের দৃষ্টান্তে 'চিন্তাশীল' উপলক্ষণটি মানুষের জাত্যর্থের বিভেদক লক্ষণ অংশে, অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তির মধ্যে নিহিত আছে। কাজেই মানুষের সংজ্ঞায় একে পুনরায় উল্লেখ করা বাহুল্যমাত্র। সুতরাং, যথার্থ সংজ্ঞা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আলোচ্য ভ্রান্তি এড়ানোর জন্য কোনো পদের সংজ্ঞায় কোনোভাবেই জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণ হিসেবে উপলক্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করা বাঞ্ছনীয় নয়।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, প্রথম ছাত্রের সংজ্ঞায় 'বাহুল সংজ্ঞা' নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে।