1 Answers
উদ্দীপকে প্রদত্ত সংজ্ঞায় অপরের মনোভাব প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যের প্রতিফলন দেখা যায়-
যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হলো শব্দ বা পদের অর্থ স্পষ্ট করার সাথে সাথে অপরের মনোভাবের উপর প্রভাব বিস্তার করা। সাধারণত কোনো বিষয় সম্পর্কে কোনো একটি ভুল ধারণা প্রচলিত থাকলে তা দূরীকরণে সংজ্ঞাই একমাত্র মাধ্যম। সংজ্ঞা মূলত একটি যথাযথ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া বলে তা অতিসহজেই সাধারণ মানুষের যেকোনো বদ্ধমূল মনোভাব পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তি তার বন্ধুর হিতাকাঙ্ক্ষী না হওয়া সত্ত্বেও তাকে সমর্থন করে সৎ বলে প্রশংসা করতে পারেন। বস্তুত সৎ হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সর্বাবস্থায় সত্য কথা বলে থাকেন।
কিন্তু এখানে ঐ ব্যক্তির উদ্দেশ্য 'সৎ' শব্দের আক্ষরিক অর্থ ব্যাখ্যা করা নয়, বরং তিনি এ ক্ষেত্রে 'সৎ' কথাটি দ্বারা তার বন্ধুর আচরণের মধ্যকার প্রশংসাসূচক আবেগময় মূল্যকে প্রকাশ করেছেন মাত্র। এখানে তার ভাষা বিষয়টির বিশেষ কোনো তাৎপর্য ব্যক্ত করেনি। কেননা আবেগময় মূল্য পদের প্রাথমিক সংজ্ঞার সাথে যুক্ত নয়, বরং যে শব্দ বা পদের উল্লেখ দ্বারা সংজ্ঞা দেওয়া হয়, তার সঙ্গে যুক্ত। যেমন : সমাজতন্ত্রের সংজ্ঞায় এর প্রবক্তারা বলেন, "Socialism is mean democracy extended to the economic fields |" এখানে সমাজতন্ত্রের আক্ষরিক বা বর্ণনামূলক অর্থ ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি; বরং যারা গণতন্ত্রকে অনুমোদন করেন, তাদের সাথে বিতর্কে জয়ী হওয়ার জন্যই মূলত সমাজতন্ত্রের এরূপ সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বস্তুত এভাবেই যৌক্তিক সংজ্ঞা অপরের মনোভাবকে প্রভাবিত করে থাকে।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে প্রদত্ত সংজ্ঞায় অপরের মনোভাবকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য প্রতিফলন দেখা যায়।