1 Answers

তিশার গৃহীত ব্যবস্থাপনার নিয়ম-কানুন অত্যন্ত যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।

ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কার্য সহজ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্তে যেসব নিয়ম পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে, তা হলো ব্যবস্থাপনার নীতি। ব্যবস্থাপনা কার্যাবলি পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার নীতিমালা হচ্ছে নির্দেশিকাস্বরূপ এবং এগুলো পূর্বনির্ধারিত সর্বজনীনভাবে গৃহীত ও প্রতিষ্ঠিত। ব্যবস্থাপনার নিয়ম-কানুন অনুসরণ এবং প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপক তার প্রতিষ্ঠানের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সুসম্পন্ন করতে সক্ষম হন।

উদ্দীপকে তিশা নিউ হ্যাভেন নামক একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের | প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্দেশনা দেন। প্রতিষ্ঠানের সকল - কর্মকর্তাকে একতাবদ্ধ হয়ে থাকা এবং সঠিক স্থানে শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রতি জোর দেয়ার লক্ষ্যে তিশা তার প্রতিষ্ঠানে প্রতিমাসে আলোচনা সভার ডাক দেন। এভাবে তিশার দিকনির্দেশনায় প্রতিবছর পোশাক কারখানাটি সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। তিশার গৃহীত ব্যবস্থাপনার নিয়ম-কানুন দুটি হলো একতার নীতি এবং শৃঙ্খলার নীতি। একতার নীতির মূলকথা হলো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও অধস্তনদেরকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সম্ভব। ঐক্যবদ্ধ দলীয় প্রচেষ্টা উদ্দেশ্য অর্জনের সহায়ক। একতার নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার অন্যতম কাজ হচ্ছে কর্মীদের মধ্যে দলগত চেতনা সৃষ্টি ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রবণতাকে জাগ্রত করা। এছাড়াও যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে এবং সঠিক বস্তুকে সঠিক স্থানে স্থাপনের নীতিকেই শৃঙ্খলার নীতি বলে। এ নীতির লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানে মানবশৃঙ্খলা এবং বস্তুগত শৃঙ্খলার ব্যবস্থা করা। এ নীতি অনুযায়ী সম্পদ ও শ্রমের অপব্যবহার ও অপচয় রোধকল্পে প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত স্থানে এবং সঠিক বস্তুকে সঠিক স্থানে স্থাপন করা হয়। শৃঙ্খলার নীতি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়।

সুতরাং উদ্দীপকের আলোচনার আলোকে এটি স্পষ্ট যে, তিশার গৃহীত ব্যবস্থাপনার নিয়ম-কানুন অত্যন্ত যৌক্তিকতার দাবি রাখে।

4 views

Related Questions