1 Answers
উদ্দীপকে নাজিব মাহফুজ বলেন, 'মানব চরিত্রে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।' নাজিব মাহফুজের এ উক্তিটি যথার্থ।
তাকওয়া একটি মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাকওয়া মানুষকে ইহকালীন ও পরকালীন উভয় জীবনকেই সম্মান-মর্যাদা ও সফলতা দান করে। ইসলামি জীবন দর্শনে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান ব্যক্তি হলেন মুত্তাকিগণ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقُكُمْ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।" (সূরা আল-হুজুরাত : ১৩)
যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে সেই আল্লাহ তায়ালার নিকট বেশি মর্যাদাবান। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।” (সূরা আত্-তাওবা: ৪)
পার্থিব জীবনে মুত্তাকিগণ আল্লাহ তায়ালার বহু নিয়ামত লাভ করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা তাকওয়াবানদের সর্বদা সাহায্য করেন। বিপদাপদ থেকে উদ্ধার করেন ও বরকতময় রিযিক দান করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক দান করবেন।” (সূরা আত্-তালাক : ২-৩)
পরকালেও তাকওয়াবানদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আল্লাহ তায়ালা শেষ বিচারের দিন মুত্তাকিদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন এবং মহাসফলতা দান করবেন। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ! যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর (আল্লাহকে ভয় কর) তবে আল্লাহ তোমাদের ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি দেবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় মঙ্গলময়।” (সূরা আল-আনফাল : ২৯)
প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া মানব চরিত্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বভাব। এর মাধ্যমে মানুষ সম্মান, মর্যাদা ও সফলতা লাভ করে। তাই নাজিব মাহফুজের উক্তিটি যথার্থ।