1 Answers

কামাল মনে করে, নবি-রাসুলের আগমনের ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। কামালের এ ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভ্রান্ত। কারণ রাসুল (স.)-এর পরে আর কোনো নবি-রাসুল আসবেন নাঁ। রাসুল (স.)ই সর্বশেষ নবি। তিনি বলেছেন, আমিই শেষ নবি আমার পরে কোনো নবি নেই। তাই কামালের ধারণা কুফরির শামিল।

কুফরি জঘন্য অপরাধ। তাই এর শাস্তিও কঠোর। কুরআন মাজিদে এর ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। যেমন-

১. যারা কুফরি করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার উপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি, যা দিয়ে তাদের উদরে যা আছে তা এবং তাদের চামড়া বিগলিত করা হবে এবং তাদের জন্য থাকবে লোহার মুগুর। যখনই তারা যন্ত্রণা কাতর হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে তখনই তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাতে এবং তাদেরকে বলা হবে, আস্বাদ কর দহন যন্ত্রণা। (সূরা আল-হজ্জ : ১৯-২২)

২. যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ এবং তিনি তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন। তা এজন্য যে, আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা অপছন্দ করে। কাজেই আল্লাহ তাদের কর্ম নিষ্ফল করে দিবেন। (সূরা মুহাম্মদ : ৮-৯)

৩. আর যারা কুফরি করে তাগূত তাদের অভিভাবক। তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা জাহান্নামি, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। (সূরা আল-বাকারা: ২৫৭)

কুফরি ইমানের বিপরীত। তাই কুফরির জঘন্য পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। যেমন-

১. আদাম (র.) আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নবি (স.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ইমানের স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ না সে কোনো মানুষকে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসবে, আর যতক্ষণ না সে যে কুফরি থেকে আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেছেন, তার দিকে ফিরে যাওয়ার চাইতে আগুন নিক্ষিপ্ত হওয়াকে সর্বাধিক প্রিয় মনে করবে এবং যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হবেন।

২. সুলায়মান ইন্ন হারব (র.) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেন, তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ইমানের স্বাদ পায়- ১. যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অন্য সবকিছু থেকে প্রিয়; ২. যে একমাত্র আল্লাহরই জন্য কোনো বান্দাকে মহব্বত করে এবং ৩. আল্লাহ তায়ালা কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর যে কুফরে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করে।

4 views

Related Questions