হজের ব্যাপারে আকরাম সাহেবের ধারণার পরিণতি কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
আকরাম সাহেব ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে। তাকে হজ করার জন্য বললে সে বলে “এটাতো এক প্রকার অপচয়। এভাবে অর্থ- অপচয় না করে তা গরিব দুঃখীদেরকে দান করলে তারা উপকৃত হবে।” হজের ব্যপারে আকরাম সাহেবের এ ধারণা কুরআন, হাদিস তথা ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থি। মহান আল্লাহ তায়ালা বিত্তশালীর ওপর বায়তুল্লাহর যিয়ারত করা ফরজ করেছেন। আল্লাহ বলেন, "মানুষের মধ্যে যার আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে, তার উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা অবশ্য কর্তব্য।” (সূরা আলে-ইমরান : ৯৭) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, “এবং মানুষের নিকট হজের ঘোষণা করে দাও, তারা তোমার নিকট আসবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে চড়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। (সূরা আল-হজ্জ : ২৭) অন্যত্র তিনি এরশাদ করেন, “একমাত্র আল্লাহর জন্য হজ ও উমরাহ পরিপূর্ণভাবে আঞ্জাম দাও।” (সূরা আল-বাকারা : ১৯৬) রাসুল (স.) বলেছেন, "যার উপর হজ ফরজ হয়েছে অথচ সে যদি হজ না করে, তবে আমি বলতে পারি না সে ইসলামের আদর্শের উপর মৃত্যুবরণ করল কি না।” (বুখারি) মহানবি (স.) আরও বলেন, "আল্লাহ যাকে হজ পালনের সামর্থ্য দিয়েছেন, যদি সে হজ না করে ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে দোযখের যন্ত্রনাদায়ক আগুনে পতিত হবে।”
কুরআন ও হাদিসের উক্ত বক্তব্য অনুসারে আকরাম সাহেবের বক্তব্য অসাড় ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়। তার ঐ মনগড়া ধারণা ও খোঁড়া যুক্তি দিয়ে হজ না করার শাস্তি থেকে সে নিজকে রক্ষা করতে পারবে না। সে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে, তার মৃত্যু হবে ইহুদি অথবা খ্রিষ্টান অবস্থায়।
সুতরাং আকরাম সাহেবের উচিত তাওবা করা এবং যতদ্রুত সম্ভব হজ আদায় করা। তার এ মনগড়া বক্তব্যের দ্বারা জনগণ বিভ্রান্ত হলে তাদের নিকটও এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।