1 Answers
'ঘ' সুস্থ-সবল কর্মক্ষম এক যুবক হয়েও কোনো কাজ করতে চায় না। অন্যের ওপর নির্ভর করে জীবন-জীবিকা নির্বাহে সে অভ্যস্ত। 'ঘ'-এর এ ধরনের কাজ করা অনুচিত। কেননা ইসলাম কর্মবিমুখতাকে ঘৃণা করে। এজন্য 'ঘ'-এর করণীয় হলো তাকে কর্মমুখী হতে হবে।
ইসলামে মানুষকে কাজ করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইবাদত পালনের পর পরই কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَوةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ
অর্থ : "অতঃপর সালাত আদায় সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর।" (সূরা আল-জুমুআ : ১০)
জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। এজন্য বসে থাকলে চলবে না। বরং নিজ উদ্যোগে কাজ করার জন্য ইসলামে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কোনোদিন খায়নি।” (বুখারি)
ইসলামে জীবিকা অর্জনের জন্য যেকোনো হালাল শ্রমকেই উৎসাহিত করা হয়েছে। নবি-রাসুলগণের জীবনী পড়লে জানা যায়, তারা জীবিকা উপার্জনের জন্য নানা কাজ করেছেন। হযরত দাউদ (আ.) কামারের কাজ করতেন, হযরত আদম (আ.) কৃষিকাজ করতেন, আমাদের নবি (স.) ব্যবসায় করতেন। জীবিকার প্রয়োজনে তাঁরা ছাগলও চরিয়েছেন। সুতরাং কোনো শ্রমই ছোট নয়। হযরত উমর (রা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন জীবিকা উপার্জনের চেষ্টায় নিরুৎসাহিত হয়ে বসে না থাকে। আমাদের অনেকে পড়ালেখা শেষ করে বেকার বসে থাকে। এরূপ বেকারত্ব ঠিক নয়। বরং যার যার সামর্থ্যানুযায়ী কাজ করা দরকার। এতে শরীর-মন ভালো থাকে। আল্লাহ তায়ালাও সন্তুষ্ট হন। সুতরং 'ঘ'- এর উচিত কাজ খুঁজে নেওয়া এবং বেকার না থাকা।