1 Answers

জীবন সাহেবের চরিত্রে 'হিংসার' প্রতিফলন ঘটেছে। কারণ তিনি তার সহকর্মী নীরব সাহেবের পদোন্নতি সহ্য করতে না পেরে তার ক্ষতির জন্য ওঠেপড়ে লেগে যায়।

হিংসার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি মানব চরিত্রকে ধ্বংস করে দেয়। হিংসা হিংসুকের মনে অন্তঃজ্বালা সৃষ্টি করে। ফলে অন্যের অনিষ্ট করতে ওঠেপড়ে লাগে। এতে মানবসমাজে ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট হয়, শান্তিশৃঙ্খলা ব্যাহত হয়।

হিংসা-বিদ্বেষ জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও উন্নতির পথে অন্তরায়। এর ফলে জাতির মধ্যে বিভেদ বৈষম্য দেখা দেয়, শত্রুতা বৃদ্ধি পায়। এতে মুসলিম জাতির ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মুণ্ডনকারী (ধ্বংসকারী) রোগ-ঘৃণা ও হিংসা তোমাদের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে। আমি চুল মুন্ডনের কথা বলছি না, বরং তা হলো দীনের মুণ্ডনকারী।” (তিরমিযি)

হিংসা-বিদ্বেষ পরকালীন জীবনেও মানুষের ক্ষতির কারণ। হিংসা মানুষের সকল নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়। মহানবি (স.) বলেছেন-

إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ

অর্থ : “তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা আগুন যেমন কাঠকে খেয়ে ফেলে (পুড়িয়ে দেয়), হিংসাও তেমনি মানুষের সৎকর্মগুলোকে খেয়ে ফেলে (নষ্ট করে দেয়)।” (আবু দাউদ) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তিন ব্যক্তির গুনাহ মাফ হয় না। তন্মধ্যে একজন হচ্ছে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী।" (আদাবুল মুফরাদ)

উল্লিখিত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয়, হিংসা শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতিই করে না বরং ধ্বংসলীলা স্থায়িভাবে নিত্য বিরাজ করার জন্য সর্বদা কাজ করে।

5 views

Related Questions