1 Answers

"উদ্দীপকের আলমগীর হোসেনের পরিস্থিতি ও পরিণতি সুভার পরিণতি থেকে ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

মানুষের জীবনে যেকোনো পরিস্থিতিই আসুক না কেন, কোনো অবস্থায়ই হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লক্ষ্য স্থির করতে হয় এবং সেই লক্ষ্যে পৌছার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। আর এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল।

উদ্দীপকের আলমগীর টাইফয়েডে আক্রান্ত হন ছোটবেলায়। এর ফলে তার পায়ের শক্তি হারিয়ে যায়। পায়ের সব শক্তি হারিয়ে ফেললেও তিনি মনে বল হারাননি। জীবিকা অর্জনের জন্য রিকশাকে বেছে নিয়েছেন। তিনি জীবনকে নিজের পঙ্গুত্বের কাছে হেরে যেতে দেননি। 'সুভা' গল্পে সুভা জন্ম থেকেই বোবা। নিজের মনের ভাব সে মুখে প্রকাশ করতে পারে না। এ কারণে সুভার বাবা-মা তাকে নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে। বিশেষ করে মা তাকে নিজের কলঙ্ক বলে মনে করে। সুভা তা বুঝতে পেরে নিজেকে সবসময় লুকিয়ে রাখতে চায়। অসহায় সুভাকে যখন বাবা-মা শহরে নিয়ে যেতে চান, তখন তার অমত থাকলেও কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। মনে মনে শুধু কষ্ট পায়। সুভা তার জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। কারণ তার চারপাশের পরিস্থিতির কাছে সে অসহায় ছিল।

উদ্দীপকের আলমগীর জীবনের প্রতিবন্ধকতার কাছে হেরে যাননি; জীবনকে জয় করেছেন। এ ক্ষেত্রে সুভা তা পারেনি, সে প্রতিনিয়ত নিজের প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মেনেছে, নিজেকে অসহায় ভেবেছে। কারণ সে পরিস্থিতির শিকার ছিল। এভাবে উদ্দীপকের আলমগীর হোসেনের পরিস্থিতি ও পরিণতি সুভার পরিণতি থেকে ভিন্ন।

4 views

Related Questions