1 Answers

'ক'-এর ভূমিকায় আখলাকে হামিদার 'সিদক' বা সত্যবাদিতা গুণটি প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ দশম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে সামি নামের এক ছাত্রের ব্যাগ থেকে কিছু টাকা হারানো যায়। শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার পর ঘটনাটি উপলব্ধি করে অন্য ছাত্রদের বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। 'ক' নামক একজন ছাত্র শ্রেণিকক্ষে যা ঘটেছে তা বিকৃত না করে হুবহু শিক্ষককে বললেন। মানবজীবনে সত্যবাদিতার প্রভাব অপরিসীম।

সত্যবাদিতা মানুষকে নৈতিক চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। পাপ ও অশালীন কাজ থেকে রক্ষা করে। সত্যবাদী ব্যক্তি কোনোরূপ অন্যায় ও অত্যাচার করতে পারে না। সত্যবাদিতার পরিণতি হলো সফলতা ও মুক্তি। যেমন বলা হয়- الصِّدْقُ يُنْجِي وَالْكِذَّبُ يُهْلِكُ

অর্থ : "সত্যবাদিতা মুক্তি দেয়, আর মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে।” সত্যবাদিতার ফলে মানুষ দুনিয়াতে সম্মানিত হয়, মর্যাদা লাভ করে। আর আখিরাতে সত্যবাদিতার প্রতিদান হলো জান্নাত। আল্লাহ তায়ালা বলেন-  هُذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ - لَهُمْ جَنَّاتٌ

অর্থ : “এ তো সেই দিন, যে দিন, সত্যবাদীদের তাদের সত্যবাদিতা বিশেষ উপকার দান করবে। তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।" (সূরা আল-মায়িদা: ১১৯) 

মহানবি (স.) বলেন, "তোমরা সত্যবাদী হও। কেননা সত্য পুণ্যের পথ দেখায়। আর পুণ্য জান্নাতের পথে পরিচালিত করে।" (বুখারি ও মুসলিম)

অন্য একটি হাদিসে আছে, একবার মহানবি (স.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কী আমল করলে জান্নাতবাসী হওয়া যায়? তিনি উত্তরে বললেন, 'সত্য কথা বলা।' (মুসনাদে আহমাদ)

সত্যবাদিতা নৈতিক গুণাবলির অন্যতম প্রধান গুণ। এটি মানুষকে প্রভূত কল্যাণ ও সফলতা দান করে। সুতরাং আমাদের সকলেরই সত্যবাদী ও সত্যাশ্রয়ী হওয়া একান্ত কর্তব্য।

5 views

Related Questions